বাচ্চুর নাম কেমনে বলছেন আপনি কি ইনভেস্টিগেশন করছেন?

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৫৭

গতকাল রবিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয়ে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির মামলা প্রসঙ্গে এমপি ফজলে নূর তাপসের ক্ষোভ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। দুদক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তাপসকে উদ্দেশ করে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আপনি বাচ্চুর নাম কেমনে বলছেন, আপনি কে? আপনি কি ইনভেস্টিগেশন করছেন? কে কী বলছে, দ্যাট ইজ নট আওয়ার কনসার্ন। এটা একটা পাবলিক ইনস্টিটিউশন। আপনি আমার পদত্যাগ চাইতে পারেন, অনেক কিছুই চাইতে পারেন, সেটা সমস্যা না। কিন্তু বাচ্চুর নাম আসবে না আপনি জানেন কীভাবে? হু আর ইউ? ইনভেস্টিগেশন করার ম্যান্ডেট তো আমাদের, ম্যান্ডেট তো আপনার না। কারো কথা আমরা কেয়ার করি না, সে যে-ই হোক না কেন।’

ইকবাল মাহমুদ আরো বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে কেয়ারফুল। ইনভেস্টিগেশন শেষ হলে যখন চার্জশিট যাবে, তখন আপনি বলতে পারেন। সেই চার্জশিটকে নারাজি দেওয়া যায়, আরো প্রসেস আছে। আমরা যদি ভুল করি সরকার, ব্যাংক তখন নারাজি দিতে পারবে। কিন্তু আমার মনে হয় না এ ক্ষেত্রে আমরা কোনো ভুল করব।’

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির মামলাগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং এসব মামলার অভিযোগপত্র তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনে জমা দিয়েছিলেন জানিয়ে দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘৫৬টি মামলা মোটামুটি একই ধরনের। এসব মামলায় যাদের এফআইআরে আসামি দেখানো হয়েছিল, ঐ রিপোর্ট আমরা গ্রহণ করিনি। কারণ টাকা কোথায় গেল, সেই তথ্য না দিয়ে চার্জশিট দেওয়া আমাদের জন্য বোকামি হবে।’

দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির টাকা মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গেছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। তা খতিয়ে দেখতে কয়েকটি দেশে এমএলআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে। ঐ সব দেশ থেকে তথ্য পাওয়া গেলে মামলাগুলোর চার্জশিটের অনুমোদন দেওয়া হবে।’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ বন্ধের ব্যাপারে দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, যারা সরকারি কর্মকর্তা, জনগণের টাকায় বেতন পান, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেবা দিচ্ছেন না, দুর্নীতির প্রস্তাব গ্রহণ করছেন এবং ঘুষ নিচ্ছেন, তারা ফাঁদ-মামলায় পড়ছেন। গত সাড়ে তিন বছরে ফাঁদ পেতে ঘুষের টাকাসহ ৭২ জন সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দুদক। দুদকে অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে উল্লে­খ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ বছরের প্রথম ১১ মাসে দুদকে ২২ হাজারেরও বেশি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে ৩ হাজারেরও বেশি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের ধারণা, ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। দেশে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ক্যাপিটাল গুডস আনার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দায়িত্ব পাওয়ার পরেও মানি লন্ডারিংয়ে মামলা না করে, আমরা তাদের নজরদারির মধ্যে রাখব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, দুদকের মামলায় সাজার হার বেড়েছে। এর পরিমাণ ৭০ শতাংশের মতো। উচ্চ আদালতে এই সাজার হার প্রায় ৫৪ শতাংশ।