ঐক্যফ্রন্টের ১৪ জন প্রার্থী জেলে, দ্রুত মুক্তি দাবি

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৩৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জেলখানায় থাকা ১৪জন প্রার্থীর দ্রুত মুক্তির দাবি জনিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একইসঙ্গে জোটভুক্ত প্রার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠকে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দলটির প্যাডে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে চিঠিতে গত আট দিনে ৯৫টি মামলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২ হাজার ২৪১জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের তথ্য দেয়া হয়। ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের ৩২জন প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় বিচার ও কারাগারে আটক ১৪ প্রার্থীকে মুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে উচ্চ আদালতের রায়ে ধানের শীষের ছয় প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের আদেশে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের প্রার্থিতা বহাল রাখতে নির্বাচন কমিশনের জোরালো ভূমিকা রাখারও অনুরোধ জানানো হয়।

এছাড়া সাদা পোষাকে পুলিশের তত্পরতা ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ এবং লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির জন্য বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার বা বদলির দাবি জানানো হয়। লিখিত অভিযোগে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশের মুখে বিএনপি মহাসচিবের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামে কর্নেল অলি আহাম্মদ; ঢাকায় মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস;, নরসিংদীতে ড. আব্দুল মঈন খান; নোয়াখালীতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও জয়নাল আবেদিন ফারুক; সিরাজগঞ্জে রুমানা মাহমুদ, ভোলায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন খানসহ ২৭টি হামলার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ১৪ জন প্রার্থী বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছে বলে লিখিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আব্দুল হামিদ, রাজশাহী-৬ আসনে আবু সাঈদ চাঁদ, মাগুরা-১ আসনে মনোয়ার হোসেন, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-২ আসনে সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, গাজীপুর-৫ আসনে একেএম ফজলুল হক মিলন, নরসিংদী-১ আসনে খায়রুল কবীর খোকন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এসএম জিলানী, কুমিল্লা-১০ আসনে মনিরুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ডা. শাহাদাত চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলাম ও কক্সবাজার-২ আসনে এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। এছাড়া বগুড়া-৩ আসনে এমএ মুহিত, জামালপুর-১ আসনে রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ময়মনসিংহ-১ আসনে আলী আজগর, মানিকগঞ্জ-১ আসেন আফরোজা খান রিতা, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদী লুনা ও ঢাকা-২০ আসনে তমিজউদ্দিনের প্রার্থীতা উচ্চ আদালতের আদেশে বাতিল বা স্থগিত হয়েছে বলে ইসিকে অবহিত করে ঐক্যফ্রন্ট। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ১৪(৫) অনুচ্ছেদের বিধানমতে আপীলে বৈধতা/অবৈধতা সংক্রান্ত কমিশনের আদেশই চুড়ান্ত বলে উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের ১২৫(সি) অনুচ্ছেদ এর বিধানে ইসিকে নোটিশ না দিয়ে কিংবা শুনানির সুযোগ না দিয়ে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদালতের এখতিয়ারকে সীমাবদ্ধ করে দেয়া আছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনের পক্ষে জোরালো ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

লিখিত অভিযোগে সাদা পোশাকে পুলিশের সিভিল টিম এর তত্পরতা বন্ধ ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধের দাবি করা হয়। এসব বিষয় অবহিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে চিঠি দেয়ার জন্য ইসির প্রতি আহ্বান জানানো হয়।