আপনার বাসা আলোকিত করে রাখে আপনার ছোট্ট সোনামণি। আর ওর বেড়ে ওঠার সাথে সাথে আপনাকে ভাবতে হয় আলাদা একটি ঘরের কথা, যেখানে গড়ে উঠবে ওর আপন নিবাস। একটি শিশুর জন্য ইন্টেরিয়র ডিজাইন এমনভাবে করতে হয় যাতে এতে তার জীবন ভালো সবকিছু দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই এবার আপনার সন্তানের ঘরের সাজ নিয়ে আমাদের আজকের এই আয়োজন। লিখেছেন খাদিজা স্বপ্না
সামিনের দিনমান ছোটাছুটি, এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয় না। আর সুযোগ পেলেই বাবার কিনে দেওয়া রংপেন্সিল নিয়ে দেয়ালে আঁকিবুঁকি, কখনও জাদুর কাঠি হাতে পরী, আবার কখনও ফুল-লতা-পাতায় মোড়া রাজপ্রাসাদ। এভাবে আপনার সোনামণিও হয়তো ঘরময় আঁকিবুঁকি করে সব সময়। শিশুর জগত্ মানেই কল্পনার সব রঙের ছড়াছড়ি। তাই সোনামণির রঙিন হাসি ধরে রাখতে তার জন্য চাই রঙিন আয়োজন।
শৈশবেই যদি শিশুকে তার মনের মতো করে থাকার জায়গা তৈরি করে দেওয়া যায় তা হলে তার মধ্যে ভবিষ্যতের উত্তরণের পথ তৈরি হয়। শিশুর ঘরের ডিজাইন করতে হলে প্রথমেই জেনে নিতে হয় শিশুর পছন্দের বিষয়টি কী। সে যদি গান পছন্দ করে তা হলে তার ঘরে সংগীতের একটি আবহ ফুটিয়ে তুলতে হবে। তার চেয়ার, টেবিল, ফার্নিচার, বিছানা সবকিছুই হবে বাদ্যযন্ত্র দিয়ে। যেমন রিডিং টেবিলটি হবে পিয়ানোর আদলে। সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টটি হতে হবে একটি ড্রাম সেটের আদলে। খাটটি হতে পারে হারমোনিয়ামের আদলে। আবার একটি ছোট মেয়ে যদি প্রকৃতিপ্রেমী হয় তা হলে তার ঘরের সবকিছুর ডিজাইন হতে পারে প্রজাপতির আদলে। দেয়ালে ঝুলিয়ে দেওয়া যেতে পারে রঙিন প্রজাপতির নানা দৃশ্য। এভাবে যে ভ্রমণবিলাসী তার ঘরের ডিজাইন হতে পারে বিছানা রেলগাড়ির আদলে, পড়ার টেবিল গাড়ির আদলে, সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট নৌকার আদলে। দেয়ালে থাকতে পারে একটি প্লেনের পোস্টার। এভাবে নানা থিমের ওপর সাজানো যেতে পারে একটি শিশুর বাড়ি।
শিশুদের বিভিন্ন ধরনের পছন্দ আছে। যেমন—কেউ পছন্দ করে গাছপালা, ফুল, প্রজাপতি, পাখি বা মাছসহ অন্যান্য প্রাণী; কেউ হয় বইপড়ুয়া; কেউ কার্টুন পছন্দ করে; কেউবা পুতুল। আবার কেউ খেলনা পছন্দ করে। অনেকের পছন্দ ভ্রমণ। তাই শিশুর মন বুঝে সেইভাবে তার ঘর সাজিয়ে দিতে হয়। আপনার সোনামণির ঘরের দেয়ালে রাখতে হবে বিখ্যাত মনীষী ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি। যাদের জীবনের প্রভাব তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ গড়ায় পথ তৈরি করতে পারে।
শিশুর ঘরে ফার্নিচার নির্বাচনের সময় সতর্ক হতে হবে। ফার্নিচারের কোনো ধারালো কর্নার থাকবে না। কেননা শিশুরা চঞ্চল হয়ে থাকে। সে ছোটাছুটির সময় ফার্নিচারে ধারালো কর্নারে যেন আঘাত না পায় সেদিকে খেয়াল রেখে ফার্নিচারের কর্নার রাউন্ড করে দিতে হবে। আর শিশুর ঘরে ওপেন স্পেসটা বেশি রাখতে হবে। যেন সে ছোটাছুটির জায়গা পায়। শিশুদের ঘরের আসবাব কেনার সময় যেমন বাবা-মায়ের আলাদা ভাবনা থাকে, তেমনটি থাকে ঘরের দেয়ালের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রেও। শিশুদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে ঘরের দেয়াল গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যে ঘরে সে থাকবে, সেই ঘরের পরিবেশের প্রভাব তার ওপর পড়বে। তাই শিশুদের ঘরের ডিজাইন বা নকশা করার ক্ষেত্রে দেয়ালের রং আর ডিজাইনের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মেয়ে বাচ্চার ঘরের জন্য গোলাপি, হালকা কমলা, হালকা নীল বা বেগুনি রং ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে শিশুটির স্বপ্নের কোনো চরিত্র, কখনও পরী, ফুল আর লতা-পাতা। ছেলেশিশুদের ঘরের জন্য হালকা সবুজ, ধূসর, নীল রঙের সঙ্গে পছন্দের কোনো কার্টুনের একটা চরিত্র বা রাখাল ছেলে আবার বিভিন্ন মোটিফের আকারে কোনো কিছু করা যেতে পারে। যেদিকে মুখ করে সে ঘুমুবে, সেই দিকটা রঙের ব্যবহারটার দিকে একটু বেশি খেয়াল রাখতে হবে।
