বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫৪

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্স

২৭ পদের মধ্যে শূন্য ১৫

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

ডাক্তার ও জনবল সংকটে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্সে। এছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকও নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২৭ পদের মধ্যে শূন্য পদ ১৫টি। নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন বহির্বিভাগে আসা রোগীরা। তাছাড়া এক যুগের বেশি সময় ধরে এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে আছে।

এদিকে, গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় কানের সমস্যার কারণে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাসেবা নিতে আসেন মান্নান মিয়া (৫৫)। সাড়ে ৯টার দিকে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারেন নাক-কান-গলার কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। অন্য কোনো চিকিত্সক দেখানোর পরামর্শ দেন টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা অফিস সহায়ক। এ সময় ঐ রোগী বলেন, হাসপাতালে নাকি কানের কোনো ডাক্তার নেই। আমি কারে দেহামু বোঝতে আছি না। আরো এক দিন আইয়্যা ফিরয়্যা গ্যাছি। কানডার মধ্যে ছাডায় (যন্ত্রণা), সইতে না পাইরয়্যা হাসপাতালে আইছি।’

এ সময় আমেনা বেগমের (৪২) নামের বামনী গ্রামের এ নারী জানালেন, জরায়ু সমস্যার জন্য চিকিত্সক দেখাতে এসেছেন তিনি। এই সমস্যার নাকি কোনো ডাক্তার হাসপাতালে নেই।

শুধু মান্নান আর আমেনা নয়, রায়পুর সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সক সংকটের কারণে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় বহির্বিভাগে আসা রোগীদের। এছাড়াও অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রসূতিদের চিকিত্সাব্যবস্থা ব্যাহত হয়। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থানকালে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, এখন গাইনি, ডেন্টাল সার্জন, অর্থোপ্যাডিক সার্জন, অ্যানেসথেসিয়া, চক্ষু ও ইএনটি, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য। প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিত্সক না থাকায় অনেক রোগী চলে যায়। তাছাড়া এক যুগের বেশি সময় ধরে এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে আছে। তাই বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাড়তি পয়সা গুনতে হচ্ছে গরিব অসহায় রোগীদের। এছাড়াও হাসপাতালে দ্বিতীয় শ্রেণির ২৪টি পদের মধ্যে পাঁচটি, তৃতীয় শ্রেণির ১১০টি পদের মধ্যে ৪৩টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৭ পদের মধ্যে ১৫টি শূন্য রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সক অরুপ পাল বলেন, হাসপাতালের মূল প্রাণ হলো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা। এখানে আট জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। রোগীরা উপযুক্ত চিকিত্সাসেবা পাচ্ছেন না। এসব রোগীকে চিকিত্সা কর্মকর্তারাই সেবা দিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৩০ শয্যার জনবলও নেই। ২৭ পদের মধ্যে ১৫টি শূন্য রয়েছে। তাই প্রতিদিন এখানে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিত্সা নিতে এলেও চিকিত্সকের অভাবে দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। চিকিত্সক ও সেবিকার শূন্যপদগুলো পূরণের বিষয়ে প্রতি মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।