অসহায়কে সহায়তা করে অবশেষে নিজেই সন্তান হারালেন এক বাবা। তার বাসায় খেয়ে-পরে তারই স্কুল পড়ুয়া ছেলে সাদমান ইকবাল রাকিনকে (১০) হত্যা করেছে গৃহশিক্ষকসহ দুই খুনি। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহ্লাদপুরের ফাউগান এলাকায় এমনই নির্মম ঘটনা ঘটেছে। হত্যার শিকার শিশুটি এ বছর ফাউগান প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারের র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন হূদয় বিদারক ঘটনার বর্ণনা দেন র্যাব-১ এর অধিনায়ক সারোয়ার-বিন-কাশেম।
তিনি বলেন, গত ৫ ডিসেম্বর বিকালে শিশুটিকে অপহরণ করে তারই গৃহশিক্ষক পারভেজ শিকদার (১৮) ও পারভেজের বন্ধু ফয়সাল আহমেদ (১৯)। ঘটনার ছয়দিন পর ১১ ডিসেম্বর দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড় থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনা শিশুটির বাবা সৈয়দ শামীম ইকবাল শ্রীপুর থানায় মামলা করলে র্যাব ঘটনার তদন্তে নামে। গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর ও জয়দেবপুর থেকে তাদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, পারভেজ শ্রীপুরের ফাউগান এলাকার আলীম শিকদারের ছেলে। সে গত বছর ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে একটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা পড়ছে। আর ফয়সাল একই এলাকার আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে। সে ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র।
সরওয়ার বিন কাশেম বলেন, গত দু’বছর ধরে শিশু রাকিনকে প্রাইভেট পড়াতেন পারভেজ। এর বিনিময়ে বেতন ছাড়াও পড়াশুনার খরচসহ বিভিন্নভাবে পারভেজকে আর্থিক সহায়তা করতেন রাকিনের বাবা। হঠাত্ পারভেজ অল্প সময়ে ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকে। তখন সে শিশুটিকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে। র্যাব জানায়, ক্রাইম পেট্রোলসহ বিভিন্ন অপরাধ বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে উত্সাহী হয়ে হত্যার ছক কষে পারভেজ। পরবর্তীতে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু একই এলাকার ফয়সালের সাথে পরিকল্পনাটি শেয়ার করে। এই উদ্দেশ্যে প্রায় ৬ মাস আগে শিশুটির বাবার ব্যবহূত একটি মোবাইল ফোন চুরি করে পারভেজ। র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন পাখি দেখানোর কথা বলে শিশুটিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। কিন্তু সন্ধ্যার পরে শিশুটি বাসায় ফিরতে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় তারা শিশুটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে ঘটনা ফাঁস হওয়ার ভয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তখন ফয়সাল প্রথমে শিশুটিকে মাটিতে ফেলে গলা টিপে ধরে। পরে পারভেজ ও ফয়সাল দু’জনে শিশুটির শরীরের উপরে উঠে একত্রে গলাটিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে। লাশ বাঁশঝাড়ের ভেতরে ফেলে সটকে পড়ে।
