বিভিন্ন সড়কে বিআরটিসি বাস সীমিত চলাচলের দাবিতে ও শ্রমিক মারধরের প্রতিবাদে ময়মনসিংহ থেকে সবধরণের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বৃহত্তর ময়মনসিংহের পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। মঙ্গলবার ছিল বন্ধের দ্বিতীয় দিন। বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রী সাধারণ। সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একদফা বৈঠক হলেও সুরাহা হয়নি।
একাধিক পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতারা জানায়, ময়মনসিংহ বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে এ অঞ্চলের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস সার্ভিস চালু করে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি তারা ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা সড়কেও বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু করে। এতে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকরা আপত্তি জানায়। গত তিন দিনেও বিআরটিসি বাস চলাচল বন্ধ না করায় অন্য বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এর ফলে তারা গত সোমবার (৯ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটা থেকে শহরের মাসকান্দা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাগামী এবং পাটগুদাম বাস টার্মিনাল থেকে কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহথেকে হালুয়াঘাট, ফুলপুর, তারাকান্দা, গৌরীপুর, ধোবাউড়া, শেরপুর, যশোহর, বগুড়া রাজশাহীসহ বিভিন্ন সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এসব অঞ্চলে আজ মঙ্গলবারও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রী সাধারণ। বেশি দুর্ভোগে পড়ে দুরদূরান্তের যাত্রী ও অসুস্থ মানুষ। মাসকান্দা বাস টার্মিনালের বাস চালক ফারুক বলেন, 'পরিবহণ মালিকদের সিদ্ধান্তেই আমরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।'
পাটগুদাম বাস টার্মিনালের শ্যামলছায়া পরিবহনের টিকিট মাস্টার মোবারক হোসেন বলেন, 'পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতারা শুরু থেকে বিআরটিসি বাস সার্ভিস বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল। র্দীঘ দিনেও বিআরটিসি বাস সার্ভিস বন্ধ না করায় অন্য বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।'
ঢাকাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'স্ত্রী সন্তান নিয়ে ময়মনসিংহে বেড়াতে এসেছিলাম। এখন মাসকান্দা বাস স্ট্যান্ডে এসে দেখি ঢাকায় যাওয়ার কোনও বাস ছাড়ছে না। এখন কিভাবে যাব বুঝতে পারছি না।'
শেরপুরে গিয়ে প্রতিদিন অফিস করেন রাকিব মিয়া। তিনি বলেন, 'বাস বন্ধ থাকায় কোনভাবেই অফিসে যেতে পারছি না। কী যে করবো ভেবে পাচ্ছি না।'
আরও পড়ুন: অবশেষে জীবননগরে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু
এ ব্যাপারে জেলা মোটর মালিক সমিতির সম্পাদক (কোচ বিভাগ) সোমনাথ সাহা বলেন, 'গত রবিবার (৮ ডিসেম্বর) আমাদের শ্রমিককে বিআরটিসির চালক ও শ্রমিকরা মারধর করে। পরে আমরা বৃহত্তর ময়মনসিংহের বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সোমবার বিকাল থেকে দুরপাল্লাসহ সব ধরণের বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।'
ইত্তেফাক/নূহু
