কে এম মাহ্ফুজ
পড়ন্ত বিকাল। ঘড়ির কাঁটা তখনো সাড়ে ৪টার কোঠায় পৌঁছাইয়নি। ইতিমধ্যে উলকাবেগে ছুটে আসা চিরাচরিত কালো গাড়িটি খোঁড়া চাচার দোকানের সামনে স্টোপেজ দিল। ততক্ষণে চাচার চায়ের দোকান চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত হলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. শাহজাহান মণ্ডল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের আড্ডায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীই আজ পিএসসি, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন দেশের জেলা আদালতসমূহ এবং সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট হিসেবে কর্মরত আছেন। এই অনুপ্রেরণা নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আলোর বাতিঘর হয়ে থাকবে।
যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেউ কোনো দিন ভাবতেই পারত না, ওরাই এখন আইকন, সোনার মানুষ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন সে পরশ পাথর? যার ছোঁয়ায় পরিবর্তিত হলো হতাশার গ্লানিকর জীবন? সেটি বুঝতে হয়তো একবার চায়ের এই আড্ডায় আসা দরকার। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকবৃন্দের অজানা ব্যস্ততার বেড়াজাল থেকে বের হয়ে আসাটা বেশ দুরূহ ব্যাপার বলেই মনে হয়। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশের চলমান সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু, নিজের জীবনকে চেনার হাতেখড়ির বাস্তবিক শিক্ষা কতজনই বা দিতে পারে?
নিত্যদিনের এমন আড্ডায় কোন শিক্ষার্থী কী অবস্থায় আছে, কার কী সমস্যা, শিক্ষার্থীদের আর্থিক, শারীরিক, মানসিক কর্মকাণ্ডের হিসাবের খাতায় ওনার কাছ থেকে ঢের তথ্যের উইকিপিডিয়া পাওয়া যাবে। এরই ধারাবাহিকতায় ফ্যাটাল ডিজিজি রিকভারি ফাউন্ডেশন (এফডিআরএফ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফান্ডে শিক্ষার্থীদের চিকিত্সার জন্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা জমানোর ব্যবস্থা করেছেন এই অধ্যাপক। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার, তারুণ্য, মুক্ত বাংলা সাহিত্য সংগঠনের জন্য প্রতিনিয়ত অনেক কাজ থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
