নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
এ কে ফারহান
স্কুলজীবন থেকেই উদ্ভাবনের প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল। কিন্তু স্কুলজীবনে ভালো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় আলাদা ভালোলাগা কাজ করলেও এ নিয়ে তেমন কিছু করা হয়ে উঠেনি। একসময় উদ্ভাবনের নেশা দারুণভাবে গ্রাস করে আমাকে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে মনে হয় সুযোগটা হাতের কাছেই চলে আসে। অংশ নিতাম অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন জায়গায় আয়োজিত প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানগুলোতে। বলেন আহমেদ কাওছার।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের ৫ম আবর্তনের শিক্ষার্থী আহমেদ কাওছার। চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছরেই শেষ করেন স্নাতকের পাঠ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছিলেন একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। স্কুলজীবন থেকেই কাওছার খুঁজে বেড়াত উদ্ভাবনীর সুযোগ। আর সেই সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে ধরা দেয়। এর যথার্থ ব্যবহার শুরু করেন, অল্প দিনেই সফলতা দিয়ে যায় হাতছানি। নামের পাশে যোগ করেন বেশ কয়েকটি অর্জন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় এই পর্যন্ত মোট ছয়টি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করেন আহমেদ কাওছার। শুরু হয় স্প্রিঙ্গার আয়োজিত সম্মেলনে শ্রেষ্ঠ গবেষণা অ্যাওয়ার্ড অর্জনের মধ্য দিয়ে। ঐ সম্মেলনে তিনি নতুন একটি অ্যালগরিদমের ওপর গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। যা নিউম্যারিক্যাল ইন্টারপোলেশন মেথডকে রিগ্রেশনের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এরপর পান কম্পিউটার ভিশনের ওপর গবেষণার জন্য শ্রেষ্ঠ গবেষণা অ্যাওয়ার্ড। কাওছার কম্পিউটার ভিশন এবং অটোমেটেড প্রসেসের ওপর গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যেটি ক্রিকেট খেলায় আম্পায়ারের কাজ করবে।
তিনি বাংলা ল্যাংগুয়েজ টুল কিট ডেভেলপ করেন। যা দ্বারা খুব সহজে বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সব কাজ করা যাবে। এ ডিভাইস বাংলা বুঝবে। রোবট বাংলায় কথা বলবে। এটি রবি আর ডেঞ্জার ২.০ তে ইনভেস্ট পাওয়ারে বিজয়ী হয়েছিল। সম্প্রতি ভারতের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে আউটস্ট্যান্ডিং রিসার্চের জন্য বেস্ট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। সেখানে তিনি ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্ক ও অপটিমিজমথ এর ওপর নতুন এলগরিদম (গাণিতিক পরিভাষা) নিয়ে করা রিসার্স পেপার উপস্থাপন করেন। সম্প্রতি তিনি এবং তার টিম বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড সংলাপ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলা চ্যাটবট অ্যাওয়ার্ড পান। তার এই চ্যাটবটটি বাংলায় কথা বলবে, বুঝবে এবং গান শুনাবে। এছাড়া কম্পিটিশন এনালিসিস করার জন্য কম্পেটেটিভ এলগরিদম আবিষ্কার করেন যেটি দিয়ে বিজনেস বা ইকোনমিক্সের কম্পিটিশন এনালাইসিস করা যাবে।
উদ্ভাবন ছাড়াও অন্য সব কাজ যার কাছে ঐচ্ছিক হয়ে যায়। সে সবসময় ভালোবাসে উদ্ভাবনীর নেশায় মগ্ন থাকতে। আর তাই তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখেন ভিন্ন কিছু উদ্ভাবনের কাজে। বর্তমানেও তিনি ইম্প্যাক্ট লার্নিং নামের একটি নতুন মেশিন লার্নিং এলগরিদম নিয়ে কাজ করছেন।
