আওয়ামী লীগেরই কেবল শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইতিহাস আছে

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:১২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনকালীন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে আওয়ামী লীগের দুইজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার গতকাল সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি তাকে এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার দলের সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র আওয়ামী লীগই ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল।

নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার এসময় বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য তার দেশ ৩২ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। আর মার্কিন দূতাবাসের ১১টা দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে। রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, তাদের জন্য মিয়ানমারের এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত, যাতে করে তারা নিরাপদে তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত যেতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘শক্তিশালী’ আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে জ্বালানি এবং এবং শিক্ষাখাতে আরো বৃদ্ধি করতে চায়।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বাংলাদেশের বিমানের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তার সরকার তখনকার বিরোধী দলকে নির্বাচনকালীন সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করে দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং মানুষ হত্যা করেছে। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপসমূহের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের সরকার ভোটে জয়লাভ করে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে আগামী অর্থবছরে ৮ শতাংশে উন্নীত করার।’

ইত্তেফাক/নূহু