বিজয়ের ৩ নাটক

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:২৬

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এসেছে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা সৃষ্টিশীল মাধ্যমে প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। মুক্তিযুদ্ধের সেই গল্পের কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে জানাতে প্রতিবছরই বিজয় দিবস উপলক্ষে নির্মিত হয় বেশকিছু নাটক ও টেলিফিল্ম, যা সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করে থাকে। এবারের বিজয় দিবস উপলক্ষে নির্মিত তিনটি বিশেষ নাটক নিয়ে আমাদের আয়োজন। লিখেছেন অজেয় চৌধুরী

উপলব্ধি

হায়দার সাহেব তার ছেলে শুভর সঙ্গে মিতুর বিয়েটা এখনই দিতে চাননি। অফিসে এবার তার পদোন্নতিটা হলেই বিয়েটা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সবার চাপে তা আর হলো না। কাজেই শুভ আর মিতুর বাগদানটা সম্পন্ন হয়ে গেল। এতে সবচেয়ে খুশি হয় মিতুর নানি। তার সবচেয়ে আদরের নাতি বলে কথা! দুই ফ্যামিলির সবাই শুভ আর মিতুর সম্পর্কটাকে সুন্দরভাবেই নিয়েছিল বলেই আজ ওরা এক হতে পারছে। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। হঠাত্ একটি সংবাদে সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেল। বেঁকে বসলেন শুভর বাবা হায়দার হোসেন। দেশের বীরাঙ্গনাদের নাম প্রকাশ করে তাদের বীরাঙ্গনা খেতাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই তালিকায় মিতুর নানি রাবেয়া খাতুনের নামও আসে। আনন্দে উদ্বেল হয়ে যায় মিতু। দুই পরিবারের সবাই খুশি হতে পারেন না শুধু হায়দার হোসেন। তাহলে কি শুভ আর মিতুর বিয়েটা হবে না? এমনই গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিজয় দিবসের বিশেষ নাটক ‘উপলব্ধি’। মেজবাহ উদ্দীন সুমনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন নিয়াজ মাহমুব। অভিনয় করেছেন নিলয় আলমগীর, মীম মানতাশা, দিলারা জামান, মোহাম্মদ বারী, সায়কা আহমেদ, আজম খান প্রমুখ। ‘উপলব্ধি’ নাটকটি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এনটিভিতে রাত ৯টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে।

মেঘ ভাঙা রোদ

প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানভীন সুইটি, দীপা খন্দকার ও তাহমিনা সুলতানা মৌ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিজয় দিবসে প্রচারের জন্য বিশেষ নাটক ‘মেঘ ভাঙা রোদ’-এ দেখা যাবে তাদের। নাটকটি রচনা করেছেন ড. ইনামুল হক। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে সুইটি বলেন, ‘নাটকের গল্পটা স্বাধীনতার সময়ের প্রেক্ষাপট এবং এই সময়ের প্রেক্ষাপটের। ইনাম স্যারের গল্পে এর আগেও অভিনয় করেছি। তিনি অনেক যত্ন নিয়ে গল্প রচনা করেন।’ দীপা খন্দকার বলেন, ‘ইনাম স্যারের কাছে এর আগেও মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছি। এবার তার লেখা মুক্তিযুদ্ধের নাটকে অভিনয় করেছি। যে কারণে বেশ ভালো লেগেছে। সবচেয়ে বড়ো কথা, অনেক বড়ো একটি টিম কাজ করেছে এই নাটকটি নির্মাণের নেপথ্যে। যে কারণে কাজটি অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে।’ নাটকটি প্রযোজনা করেছেন আফরোজা সুলতানা। নাটকে আরো অভিনয় করেছেন এসএম মোহসীন, সমু চৌধুরী, আদনান ফারুক হিল্লোল, সাব্বির আহমেদসহ অনেকেই।

বেড নাম্বার সিক্সটিন

গল্পটা ১৯৭১ সালের জুন মাসের। ত্রিপুরার মেলাঘর ক্যাম্পের পাশে বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল। ছনের ছাউনি দেওয়া একটা ঘরের চালে বাংলায় লেখা ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। সোনামুরার কাছে একটা গোয়াল ঘর পরিষ্কার করে এ হাসপাতালের যাত্রা শুরু। কিছু বাংলাদেশি ও ভারতীয় মেডিক্যাল ফেলোদের নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম হাসপাতাল এটা। পরবর্তী সময়ে মেজর আকতার ও মেজর খালেদ মোশারফের সহযোগিতায় রিফিউজি ক্যাম্পের পাশেই এই ফিল্ড হাসপালাতটি তৈরি হয়। ডা.  সাইদুর রহমান ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট। সেক্রেটারি ডা. জাফরুল্লাহ। তরুণ অর্থোপেডিক সার্জন ডা. এম এ মনিব ছিলেন সঙ্গে। গেরিলা যোদ্ধাদের প্রাথমিক চিকিত্সা এবং রিফিউজি ক্যাম্পের সদস্যদের সেবাদানের প্রকল্প ছিল এই হাসপতাল। প্রথমে ২৪ শয্যাবিশষ্টি হলেও পরে তা চারশ’র উপরে উন্নীত করতে হয়। বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা রহমান এই হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিন পর্যন্ত। জেনারেল ওসমানি এই হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের এমনই কিছু তথ্য নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘বেড নাম্বার সিক্সটিন’। মাসুম শাহরিয়ারের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করছেন আবু হায়াত মাহমুদ। নাটকে মোশাররফ করিম অভিনয় করছেন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে আর তিশাকে দেখা যাবে একজন নার্সের ভূমিকায়। এতে আরো অভিনয় করছেন সুজাত শিমুল, শফিউল আলম বাবু, মাহাবুব, আখন্দ জাহিদ প্রমুখ। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নাটক ‘বেড নাম্বার সিক্সটিন’ বাংলাভিশনে প্রচারিত হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৫ মিনিটে।