৫০ বছরের পথ পরিক্রমায় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় এ বছর নবনাট্য সৃজনে তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল পাঁচজন মঞ্চনাটক নির্দেশককে প্রণোদনা প্রদান করেছে। তাদের নির্দেশিত পাঁচটি নতুন নাটক, নাগরিকের নতুন একটি নাটক এবং মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশন প্রযোজিত নতুন একটি নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন নিয়ে গত ২৯ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ‘নতুনের উত্সব-২০১৯’ নামক সাত দিনব্যাপী নাট্যোত্সব উদযাপন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে। উত্সবটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সংস্কৃৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইউনিলিভার, বার্জার পেইন্টস ও ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড। প্রণোদনাপ্রাপ্ত পাঁচজন নির্দেশক হলেন শামীম সাগর, হূদি হক, সাইদুর রহমান লিপন, কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন, শুভাশিস সিনহা। তাদের নির্দেশিত নাটকের পাশাপাশি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় থেকে পান্থ শাহিরয়ার এবং মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশনের প্রযোজনায় মোস্তাফিজ শাহীন নির্দেশিত নাটক উত্সবে পরিবেশিত হয়। নাটকগুলো হলো ‘কালো জলের কাব্য’ (পান্থ শাহিরয়ার), ‘রাধারমণ’ (শামীম সাগর), ‘আকাসে ফুইটেছে ফুল :লেটো কাহন’ (হূদি হক), ‘অরূপরতন’ (সাইদুর রহমান লিপন), ‘খোয়াবনামা’ (কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন), ‘ও মন পাহিয়া’ (শুভাশিস সিনহা) ও ‘লটারি’ (মোস্তাফিজ শাহীন)। উত্সবের শেষ দিন পরিবেশিত লটারি নাটকটির বিশেষত্ব হলো—এটি ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কুশীলব দ্বারা অভিনীত । নাটকগুলো নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি আলী যাকের, দলের জ্যেষ্ঠ-অভিজ্ঞ সদস্য তারিক আনাম খান ও প্রফেসর আব্দুস সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত ছিল।
উত্সবের শেষ দিন বিকেল ৫টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উত্সবের সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে নাগরিক। এই অনুষ্ঠানে নাট্যাঙ্গনের বরেণ্য চারজন জ্যেষ্ঠ নাট্যব্যক্তিত্ব :ফেরদৌসী মজুমদার, জ্যোত্স্না বিশ্বাস, লাকী ইনাম ও শিমূল ইউসুফকে সম্মাননা জানায় নাগরিক। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সহসভাপতি আবুল হায়াত এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ‘নতুনের উত্সব ২০১৯’-এর আহ্বায়ক ও নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সহসভাপতি সারা যাকের। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব তারিক আনাম খান ও অধ্যাপক আব্দুস সেলিম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির বয়োবৃদ্ধ পরিচ্ছন্নতা কর্মী শেখ শামউদ্দিন সাজাহান এবং ক্যান্সার আক্রান্ত আবৃত্তি শিল্পী মো. ফখরুল ইসলাম তারাকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয় এতে। উত্সব শেষে উদ্বৃত্ত হিসেবে যে টাকা অবশিষ্ট ছিল, তা থেকে এ আর্থিক সাহায্যে প্রদান করে নাগরিক। সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে ‘লটারি’ নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মঞ্চনাটক চর্চায় নবতর সংযোজন ‘নতুনের উত্সব-২০১৯’-এর পর্দা নামে।
