রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

লাল পাহাড়ের গল্প

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:০৬

 

আঁকা-বাঁকা রাস্তার দুইপাশে উঁচু-নিচু টিলা আর মাঝে মধ্যে দুই-একটি ধান ক্ষেত। এ যেন প্রকৃতির এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। রাস্তার দুইপাশে আকাশচুম্বী গাছের সারি, চোখ জুড়ানো পাহাড় যেন সবুজের কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে।  আমাদের বাস এগিয়ে চলছে, এগিয়ে চলছে আমাদের উত্সুক দৃষ্টি। বাসের জানালাগুলো একঝাঁক তরুণকে প্রকৃতির নির্মল বাতাস আর জীবনের ছন্দ দিতে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। হেমন্তের সকালে শিশির ভেজা ঘাসে তখনো সূর্যের আলো এসে পড়েনি। কুয়াশার চাদরে তখনো ঢেকে থাকা ছোট ছোট পাহাড়গুলোর আকর্ষণ উত্সুক দর্শকের ঘুমাচ্ছন্ন ভাবগুলোকে এক নিমিষেই দূর করে দিয়েছে। বলছিলাম শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান মধুটিলা ইকোপার্ক এবং গজনী অবকাশ কেন্দ্র ভ্রমণের গল্প।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা দুইটি বাস নিয়ে বার্ষিক শিক্ষাসফরে রওয়ানা হই শেরপুরে। আমাদের ৮৫ জন শিক্ষার্থীর সাথে ছিলেন বিভাগের দুইজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক।

আমরা প্রথমে যাই বারমারী এলাকার খ্রিস্টান ধর্মীয় উপাসনালয়ে। তারপর সেখান থেকে একটু দূরে আমাদের কাঙ্ক্ষিত মধুটিলা ইকোপার্কে এবং গজনী অবকাশ কেন্দ্রে অবস্থান করি। আগে অনেক শুনেছি ওয়াচ টাওয়ারের গল্প। ওয়াচ টাওয়ারটির উচ্চতা প্রায় ৬৪ ফুট। যতই উপরে উঠেছি প্রকৃতি যেন তাদের কোলে তুলে নিচ্ছিল আমাদের। মনে হচ্ছিল সবুজ পাহাড়ের প্রকৃতি যেন আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাকে উপভোগ করার জন্য। দূর থেকে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের স্পর্শ আর অনুভূতি আমাদের শিহরিত করে তুলছিল। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বেড়ে উঠেছে ঘন শালবন, সেগুন, মেহগনি, মহুয়া আরো নাম না-জানা অনেক বৃক্ষ।

যখন আমরা ওয়াচ টাওয়ারটির চূড়ায় উঠলাম তখন মনে আনন্দের হিল্লোল বইছিল। এমনিতেই সাহিত্যের ছাত্র আমরা। প্রকৃতির এমন দৃশ্য তরুণ মনে এনে দিচ্ছিল বাসন্তী রং। পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট ঘরবাড়ি আর ধানক্ষেত। উপর থেকে মনে হচ্ছিল কে যেন সবুজ আর টিয়া রঙের গালিচা পেতে রেখেছে। কখনো কখনো ওয়াচ টাওয়ারের বটগাছের তলায় হেলান দিয়ে দর্শনার্থীরা ছবি তুলছিল। বট গাছের পাশের চমত্কার একটি লেক বয়ে চলেছে। তিনটি ময়ূরপঙ্খী ভাসছে লেকটিতে। এ যেন পার্বত্য রাজাদের নৌবিহারের দৃশ্য। ঘন জঙ্গল আর পাহাড়ের চূড়ায় বৃক্ষের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে আছে ডায়নোসর, জিরাফ এবং হাতির কৃত্রিম প্রতিকৃতিগুলো। দূর থেকে যেকেউ প্রথমে আঁতকে উঠতে পারেন। এমন অনেক আঁতকানোর মতো দৃশ্য আছে এ পাহাড়ে।

ঘুরতে ঘুরতে হঠাত্ পশ্চিম আকাশের সূর্য হলদে থেকে রক্তবর্ণ আকার ধারণ করতে থাকে। সেও বিদায় নিতে থাকে। আর আমাদের দেয় বিদায়ের বার্তা। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলছিলেন, আপনারা এখনো স্থান ত্যাগ করেননি! বনাঞ্চল থেকে যেকোনো সময় হাতিসহ বন্যপ্রাণী আক্রমণ করতে পারে! আমরা বাসে উঠে ড্রাইভারকে বললাম এবার চলুন। বনের আড়াল থেকে কয়েকটি শেয়াল ডাকছিল, আমরা কিন্তু থামিনি— রওয়ানা হই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে।