পড়ালেখার পাশাপশি পার্টটাইম কাজের সুযোগ

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:১১

পড়ালেখার পাশাপশি রোজাগার করার ইচ্ছাটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে অনেকের। বাবা-মা অনেক সময় পড়ার ক্ষতি হচ্ছে ভেবে আপত্তি করেন। কিন্তু পকেট একটু ভারী রাখতে কার না ইচ্ছা করে। নিজের পকেটমানির জন্য আর কত বাবা-মায়ের কাছে হাত পাতা যায়! আসলে একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে নিজেদের চাহিদার পরিমাণও। তাই এর সমাধান হতে পারে পার্টটাইম চাকরি।

কাজের ধরন :পার্টটাইম জব হয়ে থাকে সাধারণত কলসেন্টার, এনজিও, মিডিয়া, কোচিং সেন্টার, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিউজ স্ক্রিপ্ট রাইটার, প্রুফ রিডিং, মেকআপ আর্টিস্ট, মডেলিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট,  বিভিন্ন বুটিক হাউজ, নামকরা রেস্টুরেন্ট ও চেইন শপগুলোতে। এসব প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম বা চুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে বিক্রেতা অথবা কাস্টমার সার্ভিসে পার্টটাইম বা চুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ অনেক। মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা ও বইমেলাসহ এ ধরনের বিভিন্ন আয়োজনেও থাকে পার্টটাইম কাজের সুযোগ। এসব কাজে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারাই অগ্রাধিকার পায় বেশি।

নিয়োগ প্রক্রিয়া :প্রয়োজন অনুযায়ী পত্রিকা বা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ ফ্যাশন হাউজের জন্য তেমন একটা বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় না। সেক্ষেত্রে ফ্যাশন হাউজের বিভিন্ন শোরুমে অথবা তাদের প্রধান কার্যালয়ে সিভি দিয়ে রাখলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আবার কিছু কিছু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠনের মাধ্যমেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।

নিয়োগকর্তার চাহিদা :সুন্দর উপস্থাপনা, ভালো করে কথা বলতে পারা এবং মার্জিত প্রার্থীকেই সাধারণত বাছাই করা হয়ে থাকে। প্রার্থীর মধ্যে অবশ্যই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থির হতে হবে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের বাইরের রূপ হিসেবে কাজ করে তারা। তাদের আচার-ব্যবহার এবং সেবা দেখেই ক্রেতা বা ক্লায়েন্টদের মনে আস্থা তৈরি হয়। তাই এক অর্থে তারাই প্রতিষ্ঠানের অবয়ব।

কীভাবে দেবেন সিভি :এসব জায়গায় সিভিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করলে ভালো হয়। যেমন—আপনার উচ্চতা, কাজের অভিজ্ঞতা যদি থাকে, কম্পিউটারে দক্ষতা এবং আপনার ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণক্ষমতা। আপনি যে স্থানে কাজ করতে চান, তাদের শোরুম অথবা অফিসের ঠিকানায় এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবিসহ সিভি জমা দিয়ে রাখতে পারেন। খামের উপর অবশ্যই লিখবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত পদের নাম।

পার্টটাইম কাজের কয়েকটি ক্ষেত্র

কলসেন্টার :বিভিন্ন মোবাইল ও অন্যান্য কলসেন্টারে পার্টটাইম-কাজের সুযোগ রয়েছে। এখানে ৩ শিফটে কাজ করার সুযোগ আছে। প্রতি শিফট ৮ ঘণ্টা করে। শিফট শুরু সকাল ৭টা থেকে। এক্ষেত্রে নিজের পছন্দমতো শিফট নেওয়া যায়। ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক। সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা, বেলা ৩টা থেকে রাত ১১টা, রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা। কাজ করতে হবে সপ্তাহে ৫ দিন। পার্টটাইম কাজের জন্য ন্যূনতম ছয় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় কথা, এই পেশায় আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন। যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোতেও ভালো বেতনে চলে যেতে পারবেন।

এনজিও :বাংলাদেশে এনজিওগুলোতে পার্টটাইম জবের রয়েছে বিশাল বাজার। পত্রপত্রিকার মাধ্যমে কিংবা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে জানা যাবে পার্টটাইম জবের খবর। এনজিওগুলো শিশু, নারী, পরিবেশ, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করে। অনেক সময় এনজিওতে পার্ট-টাইম কাজ করার সুবিধা থাকে। সমাজে প্রতিবন্ধী এবং দুস্থ ছেলেমেয়েদের পড়ানো, হাতের কাজ শেখানো, গান, আঁকা, নাচ, এমনকি ইলেকট্রিক্যাল কাজও শেখানো হয়। এগুলোর মধ্যে কোনো একটা কাজ জানা থাকলেই এদের সাহায্য করা যায়। এ ছাড়া ফিল্ডেও কাজ করতে হতে পারে। সেখানে ঘুরে-ঘুরে সমীক্ষা, প্রাথমিক উন্নয়ন, কমবয়সী থেকে বয়স্কদের শিক্ষা, স্যানিটেশন, সেক্স এডুকেশন—সবরকম কাজই করতে হতে পারে। প্রথম দিকে টাকা খুব একটা বেশি পাওয়া যায় না। ট্রেনিংয়ের পর কাজের অভিজ্ঞতার সাক্ষ্য হিসেবে সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে চাকরি খোঁজার সময় সার্টিফিকেট এবং অভিজ্ঞতা দুই-ই কাজে আসে।

শিক্ষকতা :এই সময়ের আকর্ষণীয় পার্টটাইম জব হলো শিক্ষকতা। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পার্টটাইম জব করছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্রিয়েটিভ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন—ফ্যাশন ইনস্টিটিউট, ইন্টেরিয়র ইনিস্টিটিউট বা হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটে। আর শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পার্টটাইম জব টিউশন ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষকতা। এ ছাড়াও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম জবের সুযোগ রয়েছে। পড়ানোর শ্রেণিভেদে বেতন হয় ভিন্ন ভিন্ন। নিজস্ব যোগাযোগই টিউশন পাওয়ার সহজ উপায়। এ ছাড়া নিকটস্থ কোচিং সেন্টারে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করতে পারেন। পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে জবের জন্য রেজিস্ট্রার বরাবর যোগাযোগ করতে পারেন।

শপিং সেন্টার :শপিং সেন্টারে জব বলতে নামকরা রেস্টুরেন্ট, চেইন শপ, ফ্যাশন হাউজ, আইটি প্রোডাক্ট শপ, পিত্জা হাট, কেএফসির মতো প্রতিষ্ঠানে বিক্রেতা অথবা কাস্টমার সার্ভিসে পার্টটাইম বা চুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ অনেক। এ ছাড়া মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা ও বইমেলাসহ এ ধরনের বিভিন্ন আয়োজনেও থাকে পার্টটাইম কাজের সুযোগ। এসব কাজে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে পার্টটাইম বা চুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ রয়েছে। বেতনের সাথে রয়েছে বিক্রির উপর কমিশন, রয়েছে ওভারটাইম করার সুযোগ।