১৩৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফারমার্স ব্যাংকের (পদ্মা ব্যাংক) অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতি ওরফে বাবুল চিশতিসহ তার পরিবারের পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আরো পাঁচটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যাদের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন হয়েছে তারা হলেন—মাহবুবুল হক চিশতি, তার স্ত্রী রোজি চিশতি, ছেলে রাশেদুল হক চিশতি, ছেলের স্ত্রী ফারহানা আহমেদ ও তার মেয়ে রিমি চিশতি। গতকাল বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের বৈঠকে দুদক আইনের দুইটি ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। উল্লেখ্য, ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় এর আগে সাতটি মামলা করেছে দুদক। সবগুলো মামলায়ই মাহবুবুল হক চিশতিকে আসামি করা হয়েছে। ঐ সব মামলায় মাহবুবুল হক চিশতি গ্রেফতার রয়েছেন।
দুদক জানিয়েছে, সবগুলো মামলায়ই আসামি হচ্ছেন মাহবুবুল হক চিশতি। আর চিশতির ছেলে রাশেদুল হক আসামি হচ্ছেন দুই মামলায়। মামলায় আরো আসামি হচ্ছেন চিশতির স্ত্রী রোজি চিশতি, মেয়ে রিমি চিশতি ও পুত্রবধূ ফারহানা আহমেদ। দুদক সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে বাবুল চিশতির নামে ২৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৫৯০ টাকার অবৈধ সম্পদ, স্ত্রী রোজি চিশতির নামে ৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার সম্পদ, ছেলে রাশেদুল হক চিশতির নামে ৩২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, ছেলের স্ত্রী ফারহানা আহমেদের নামে ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ এবং মেয়ে রিমি চিশতির নামে ২১ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অপরদিকে ৮৪ লাখ ৭২ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ২ কোটি ৫২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বাবুল চিশতির শ্যালক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করে। মামলার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনিও কারাগারে আটক রয়েছেন।
