চা ষা বা দ
g আবুল কাসেম ভুঁইয়া
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মাঝে মাশরুম এখন একটি জনপ্রিয় খাবার। মাশরুমের বিশেষ গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও মাশরুম আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত সহজলভ্য হয়নি। কিন্তু একটু সচেতন হলেই আমরা নিজেরাই আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা নিজেরাই পূরণ করতে পারি। আমাদের দেশে সাধারণত খাবারের উপযোগী তিন জাতের মাশরুম চাষ হয়।
ক) স্ট্রমাশরুমঃ ধানের খড়, শিমুল তুলা, ছোলার বেসন ও চালের কুড়া ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করে স্ট্রমাশরুমের চাষ করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এর চাষ করা যায়।
খ) ইয়ার মাশরুমঃ সাধারণত বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবে আম গাছে ইয়ার মাশরুম পাওয়া যায়। ইয়ার মাশরুম দেখতে কালচে রঙয়ের হয়ে থাকে। ইয়ার মাশরুম সারা বছর চাষ করা গেলে ও সাধারণত বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়।
গ) অয়েস্টার মাশরুমঃ আমাদের দেশে এইজাতের মাশরুমের চাষ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সারা বছরই এই মাশরুম চাষ করা যায় তবে শীত এবং বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়। অয়েস্টার মাশরুম খুব সহজে চাষ করা যায় এবং এর জন্য খুব অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়। মাশরুম উত্পাদন কৌশল এবং চাষের উপযোগী স্থান সম্পর্কে জানা যায় মাশরুম খোলা জায়গায় চাষ করা যায় না, আর তাই জন্য আবাদি জমির প্রয়োজন পড়ে না। মাশরুম চাষ করার জন্য ছায়াযুক্ত জায়গায় ছন বা বাঁশের চালা দিয়ে ঘর তৈরি করতে হয়। মাটির দেওয়াল দিয়েও ঘর তৈরি করা যায়। আবার বাঁশের বেড়াও দেওয়া যায়। ঘরের ভেতরে যাতে আলো প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বাঁশের বেড়ায় মাটি লেপে দিতে হয়।
অয়েস্টার মাশরুম চাষ পদ্ধতিঃ ওয়েস্টার মাশরুম বীজ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করে মাশরুম চাষ করা যাবে। ধাপে ধাপে মাশরুম চাষ করতে হয়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে আরো জানা যায়, পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার প্রজাতি খাওয়ার অযোগ্য। আনুমানিক ১০ হাজার মাশরুমের ওপর গবেষণা চলছে। এদের ভেতর ১০ প্রজাতির মাশরুম খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। মাশরুম চাষে বেশি লাভ হওয়ার কারণে আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক এবং গৃহিণীরা মাশরুম চাষে এগিয়ে আসছেন। মাশরুম চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা, ক্ষুদ্র বা ব্যাপক পরিসরে মাশরুম চাষ করা যায়। স্পন থেকে মাশরুম চাষ করা হয়। এই স্পনগুলো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়। মাশরুম চাষ করতে গেলে সর্বপ্রথম সঠিক কর্মপরিকল্পনা করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে কাজ পরিচালনা করার জন্য হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি। কিছুলোক একত্রে মিলেমিশে মাশরুম চাষ করলে দ্রুত লাভবান হওয়া যায়। ঘরে বসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করা যায়। শহর কিংবা গ্রামে সব জায়গায় মাশরুম চাষ করা সম্ভব। স্পনগুলোকে রাখার জন্য ছোটো ছোটো মাচা ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো হতে পারে লোহা, বাঁশ কিংবা কাঠের। অতিরিক্ত গরম মাশরুম চাষের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এজন্য প্রয়োজন হলে ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি মাশরুম চাষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির প্রয়োজন হয়। হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের সাহায্যে স্পনগুলোতে নিয়মিত পানি দিয়ে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা করে রাখতে হবে।
মাশরুমের উত্পাদন সম্পর্কে জানা যায়, সাধারণ ভালো মানের স্পন থেকে গ্রীষ্মকালে প্রতি আড়াই মাসে ৯০ থেকে ১০০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যায়। শীত এবং বর্ষাকালে মাশরুম উত্পাদন অধিক পরিমাণে হয়ে থাকে। এ সময় একটি ভালো মানের স্পন থেকে প্রতি আড়াই মাসে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম মাশরুম উত্পাদন করা সম্ভব। ১০-১২ টাকা মূল্যের এই স্পনগুলো প্রতি আড়াই মাস পরপর পরিবর্তন করতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মাশরুমের চাষ করা হচ্ছে। মাশরুম চাষের পাশাপাশি মাশরুম বিপণন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সঠিকভাবে বিপণন করতে না পারলে মাশরুম থেকে অধিক পরিমাণে লাভ করা সম্ভব নয়। এজন্য চাষের পাশাপাশি বিপণন বা মার্কেটিং পদ্ধতি ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন বড়ো বড়ো হোটেলগুলোতে এবং চায়নীজ রেস্টুরেন্টগুলোতে মাশরুমের ভালো চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া দেশের বড়ো বড়ো সুপার শপ, ডির্পাটমেন্টাল স্টোরগুলোতে এবং বাজারে মাশরুম বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণত বাজারে প্রতিকেজি মাশরুম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব না হলে তা শুকিয়ে রাখা সম্ভব। এটাকে ড্রাই মাশরুম বলা হয়। বাজারে ড্রাই মাশরুমের দাম প্রতিকেজি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। ড্রাই মাশরুম পানিতে ভেজালে আবার কাঁচা মাশরুমের মতো হয়ে যায়
