অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০২

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্য যে কোনো উপায়ে অসত্য, বিভ্রান্তিকর, গুজব ও অপপ্রচার চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বেআইনি এবং এ ধরনের অপরাধের বিচার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা সম্ভব। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দ্বারা ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও, সরাসরি অপপ্রচার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রামে-গঞ্জে বাড়িতে বাড়িতে ধর্মের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সহজ সরল ও অপেক্ষাকৃত দরিদ্র জনগণকে এই অপপ্রচার চালিয়ে নানাভাবে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বড় বড় শহরের বস্তি ও গ্রামাঞ্চলের নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র এলাকাগুলোকেই অপপ্রচারের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের অপপ্রচারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মহিলা কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মহিলা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে কোনো একটি বিশেষ মার্কায় ভোট না দিতে যেমন বলা হচ্ছে, তেমনি ধর্ম রক্ষায় অন্য একটি মার্কাকে ভোট দিতে উত্সাহিত করা হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম কর্মী ও দলীয় নেতা-কর্মীসহ সকলের চোখ ফাঁকি দিয়েই অত্যন্ত নীরবে ও গোপনে সারা দেশেই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের অপপ্রচারের ভাষা, যুক্তি ও কৌশলের কারণে খুব সহজেই সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মহিলারা বিভ্রান্ত হচ্ছে। এই অপপ্রচারে নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অপপ্রচার বন্ধে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদেরও সচেতন হতে হবে। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় অবিলম্বে অপপ্রচার প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে যে কোনো ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধ করা জরুরি। অচেনা প্রচারকারীদের সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং তাদের প্রচার কাজের দিকে লক্ষ রাখতে হবে। যেহেতু নির্বাচনে ধর্মীয় প্রচারণা এবং সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে—এমন যে কোনো ধরনের অপপ্রচার নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন, তাই এদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ না করে উপায় নেই। তবে লক্ষ রাখতে হবে, অপপ্রচারবিরোধী তত্পরতা যেন কোনো দলীয় প্রার্থীর স্বাভাবিক প্রচার কাজে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি না করে। শুধু ধর্মের নামে অপপ্রচার যাতে চালাতে না পারে সেদিকেই লক্ষ রাখতে হবে। একইসঙ্গে জনগণকে সচেতন করতে হবে যাতে তারা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়।

দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে নানাভাবে বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ এমনকি বানচালের জন্যও নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, অপপ্রচার অথবা গুজব রটিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টাও চালানো হতে পারে। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে এবং ইসি, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনী প্রচার কাজে সব রকম সংঘাত বা সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে হবে যাতে দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। ষড়যন্ত্রকারীরা যে কোনো বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়েই বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে। মনে রাখতে হবে, এটি শুধু ক্ষমতার পালা বদলের নির্বাচন নয় বরং দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গণতন্ত্র ও গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখাবেন এবং দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের মঙ্গলের জন্য দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করবেন।

ফরিদপুর