ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০৫

ঢাকা শহর তো বটেই দেশের বড় বড় শহরে উদ্বাস্তু বা ভাসমান কিছু মানুষ রয়েছে। যারা রাস্তার পাশে পলিথিনের তৈরি ঘরে বাস করে—অনেকের ভাগ্যে সেটুকুও জোটে না। এরা হয় বংশপরমপরায় এভাবে থাকছে অথবা বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শহরে পাড়ি জমায়। গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম, বর্ষায় বৃষ্টি, পৌষ-মাঘে হাড়কাপানো শীত ছাড়াও ঝড়-বজ্রপাতের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে। রাস্তার পাশে ভাসমান এসব মানুষের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে একবার নিজেকে কল্পনা করুন তো? তাদের সন্তানেরা ঠিকমতো মৌলিক অধিকার নিয়ে বেড়ে উঠছে না, মায়েরা গর্ভকালীন যে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, জন্ম নিচ্ছে পুষ্টিহীন শিশু। অপুষ্টি নিয়েই বেড়ে উঠছে তারা। এরা আস্তে আস্তে  বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তি করছে। ধূমপান থেকে শুরু করে বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হচ্ছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা চুরি-ছিনতাই শুরু করে। তারপর বড় কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, যা সমাজ-রাষ্ট্রে প্রভাব ফেলছে। অসহায় এ ছিন্নমূলদের নিয়ে ভাবার জন্য সমাজের বিত্তবানরা খুব কমই সময় পাচ্ছে।

আমরা উন্নয়শীল দেশে উন্নীত হয়েছি। জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে। মহাকাশে আমরা স্যাটেলাইট পাঠিয়েছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে। আমরা এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নই। তাহলে একই দেশে বসবাস করে কেন একজন দশ তলায় আরেকজন খোলা আকাশের নিচে ঘুমাবে?

সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, একথা সত্য। কিন্তু এসব অসহায় মানুষের দুর্দশা লাঘব করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। সমাজের বিত্তবানদের আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। দেশে  অনেক বড় বড় এনজিও রয়েছে, তারা এগিয়ে এলে এ কাজটা অনেক সহজ হবে। সকলের আন্তরিকতা থাকলে দেশে একজনও ভাসমান মানুষ থাকবে না। এসব মানুষকে গ্রামে ফেরত পাঠাতে হবে সেখানে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামে যাদের ভিটেমাটি নেই, সরকারি জমিতে পুনর্বাসন করতে হবে তাদের। এদের শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ বিনির্মাণে সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

কিছদিন আগে একটা খবর দেখলাম বিভিন্ন গণমাধ্যমে—বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত হারে ধনী বাড়ছে বাংলাদেশে! কিছুদিন পরে যেন এমন একটা খবর শুনতে পাই—বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত হারে দরিদ্র কমছে বাংলাদেশে। সমাজ ও রাষ্ট্রের আন্তরিকতা আর সীমিত সমপদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমেই এটি সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়