ইমন চৌধুরী
বইমেলা সামনে রেখে ব্যক্তিগত লেখালেখি নিয়ে ডুবে আছি। হঠাত্ ঠাট্টার বিভাগীয় সম্পাদকের ফোন, ‘ভাই, ঠাট্টার ৫০০তম সংখ্যা তো চলে এলো। একটা লেখা দেন।’
আমি রীতিমতো চমকে উঠি। এরমধ্যে ৫০০তম সংখ্যা হয়ে গেল! অথচ মনে হলো এই তো সেদিনের কথা! দৈনিক ‘ইত্তেফাক’ থেকে একটি রম্য ও বিদ্রূপ ম্যাগাজিন (শুরুতে ম্যাগাজিনই ছিল। বর্তমানে আকার বদলে ট্যাবলয়েড হয়েছে) বের হবে, এ নিয়ে আমাদের সে কী উত্তেজনা! জনপ্রিয় লেখক সুমন্ত আসলামের সম্পাদনায় বের হবে ‘ঠাট্টা’। এর সঙ্গে যথারীতি যুক্ত হলাম আমরা। আমরা মানে সুমন্তদার দীর্ঘদিনের সঙ্গী—শরীফ শহীদুল্লাহ্, কাজী মাহমুদুর রহমান, খায়রুল বাবুই, রোহিত হাসান কিছলু, কাওছার মাহমুদ, মো. রায়হান কবির, রাহাত রাস্তি ও আমি ইমন চৌধুরী। দৈনিক ‘প্রথম আলো’র রম্য ও বিদ্রূপ ম্যাগাজিন ‘আলপিন’-এর সুবাদে সবাই ততদিনে সুপরিচিত লেখক হয়ে উঠেছেন।
সুমন্তদার মিরপুরের বাসায় শুরু হলো ঠাট্টা নিয়ে আমাদের একের পর এক মহাগুরুত্বপূর্ণ (আমাদের মতে) বৈঠক। বৈঠকে আইডিয়া প্রসবের চেয়ে খাওয়া-দাওয়ার দিকেই আমাদের ঝোঁক ছিল বেশি।
সবাই খেতে খেতে দৈনিক ‘ইত্তেফাক’ থেকে প্রকাশিতব্য রম্য ও বিদ্রূপ ম্যাগাজিনটির জন্য একের পর এক নাম প্রস্তাব করতে শুরু করি। আমার মাথা থেকেও বের হলো একটি নাম। ঠাট্টা। শেষ পর্যন্ত এ নামটিই টিকে গেল।
এভাবেই যাত্রা শুরু ঠাট্টার। যথারীতি পাঠকের তুমুল ভালোবাসায় একের পর এক বের হতে থাকে ঠাট্টার একেকটি সংখ্যা। সপ্তাহের প্রতি বুধবার আমি ও রোহিত হাসান কিছলু বসতাম পাঠকদের চিঠির বস্তা নিয়ে। এদিন বিশাল টেবিলে পাঠকদের পাঠানো চিঠির ছোটখাটো একটা পাহাড় হয়ে যেত। দুপুর হলে চলে যেতাম মতিঝিলে (তখন ইত্তেফাক অফিস ছিল মতিঝিলের ইত্তেফাক ভবনে) গরম গরম ডিম-খিচুড়ি খেতে। আমার ও রোহিত হাসান কিছলুর সঙ্গে প্রায়ই যোগ দিতেন ঠাট্টার সে সময়ের কার্টুনিস্ট কাওছার মাহমুদ। কাওছার ভাইয়ের চরিত্রের সবচেয়ে ভালো দিকটা হচ্ছে, তিনি কখনো আমাদের বিল পরিশোধ করতে দিতেন না। এখনকার যুগে এমন মহান মানুষ খুব একটা দেখা যায় না। তারপর সময়ের সঙ্গে পালাবদল হলো আমাদেরও। সুমন্ত আসলামও ততদিনে ‘ইত্তেফাক’ ছেড়ে ‘সমকাল’-এ যোগ দিয়েছেন। আমরাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে একেকজন একেক গণমাধ্যমে যুক্ত হয়ে পড়ি। এ যাত্রায় ঠাট্টার হাল ধরলেন অনুজ লেখক সাইফুল ইসলাম জুয়েল। সেই যে হাল ধরল আর ছাড়াছাড়ির নাম নেই। এর মধ্যে সেটা এসে ৫০০তম সংখ্যায় ঠেকেছে। ঠাট্টার শুরুর দিকের একজন লেখক হিসেবে আমি চাই, ঠাট্টা তার এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে একদিন ৫০০০তম সংখ্যা পার করুক। জয় হোক ঠাট্টার। জয় হোক ঠাট্টার সকল পাঠকের ও পাঠিকাদের তো বটেই।
[ লেখক : কথাসাহিত্যিক ও বিভাগীয় সম্পাদক,
বিচ্ছু, দৈনিক যুগান্তর]
