যুগ যুগ জিও...

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:০৪

 

শফিক হাসান

 

মনে হয়, এই তো সেদিন যাত্রা শুরু করল ঠাট্টা; রাজধানীর টিকাটুলির ইত্তেফাকের এক টুকরো পরিসরে। নেতৃত্বে ছিলেন জনপ্রিয় লেখক সুমন্ত আসলাম। সহযোগী সৈন্যসামন্ত ছিলেন বন্ধুবর ইমন চৌধুরী, রোহিত হাসান কিছলু, রাহাত রাস্তি, কাওছার মাহমুদের মতো উদ্যমী তরুণরা। ১৬ পৃষ্ঠার ফান ম্যাগাজিন ঠাট্টা একসময় আট পৃষ্ঠার ট্যাবলয়েডে রূপান্তরিত হলো। স্থানান্তরিত হলো অফিসও—টিকাটুলি থেকে কাওরান বাজার। সুমন্ত আসলাম ‘প্যাঁচআল’-এর দায়িত্ব নিলে বিভাগীয় সম্পাদক হন মোর্শেদ নাসের টিটো। তার আমলে ঠাট্টার পরিশ্রমী লেখক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ‘পুঁচকে’ সাইফুল ইসলাম জুয়েল। ও মা, একদিন দেখি জুয়েলই বিভাগীয় সম্পাদকের আসন অলংকৃত করেছেন!

জুয়েল মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে চলেছেন কয়েক বছর যাবত। ঠাট্টার ট্যাবলয়েড আকারে প্রকাশের যুগসন্ধিক্ষণেরও সাক্ষী তিনি। দেশের একঝাঁক তরুণ ও আনকোরা লেখকের অবাধ বিচরণভূমি হয়ে উঠেছে ঠাট্টা। কাওরান বাজার যেন আনন্দের বাজার! এখানেই আলপিন, ভিমরুল, ঠাট্টার জন্ম হয়েছে! রবিবার মানেই যেন একঝলক আনন্দ, এক চুমুক টাটকা রসের জোগান! ফান ম্যাগাজিনের ইতিহাসে বোধকরি একমাত্র ঠাট্টাই বিরতি না দিয়ে অতিক্রম করেছে ৫০০-র মাইলফলক! নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত বিচ্ছু ৭০০-র ঘর অতিক্রম করলেও দীর্ঘদিন ছিল চোখের আড়ালে। আলপিন তো বিশাল ইতিহাসের সৃষ্টি করে নিজেই ‘ইতিহাস’ হয়ে গেল! তারপর রস+আলোও রস বিলোতে বিলোতে নিঃশেষ হলো একদিন!

বোধহয় ওবায়দুল গনি চন্দন একদা ছড়ায় বলেছিলেন—পত্রিকা বের করিলে ফান ম্যাগাজিন লাগিবে, নইলে পাঠক অন্য কাগজে ভাগিবে! পাঠক না ভাগলেও একসময় ফান ম্যাগাজিন নিজেই ‘ভেগে’ যেতে শুরু করল। মানবজমিন-এর জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ছিল ‘খবর আছে’, আমার দেশ-এর ‘ভিমরুল’, মূল পত্রিকার সঙ্গে বের হতো সংবাদের ‘বাঁশ’ ও ভোরের কাগজের ‘রঙ্গব্যাংক’। এভাবে খুঁজলে আরও কিছু নজির পাওয়া যাবে। তবে ‘বে-নজির’ উদাহরণ হলো বন্ধ হওয়াটা। সর্বশেষ কালের কণ্ঠ-এর ‘ঘোড়ার ডিম’ বন্ধ হওয়ায় রসপিয়াসী পাঠকের ‘অশেষ দুঃখ’! ১৬ পৃষ্ঠার ম্যাগাজিন থেকে আট পৃষ্ঠার ট্যাবলয়েড, সেখান থেকে আর ‘কিছুই থাকল না’! হায়, ফান ম্যাগাজিনের জীবন এত ছোট কেনে! জাতির জীবন থেকে আনন্দ উধাও হবে বলে, মুখের হাসিটুকু কেড়ে নেবে বলেই কি একের পর এক ‘অপমৃত্যু’!

ফান ম্যাগাজিনের নিদানকালে প্রার্থনা—ঠাট্টা টিকে থাকুক আপন আলোয়। মফস্বল থেকে যে কিশোর-তরুণ কাঁপা হাতে, তীব্র উত্তেজনায় প্রথম লেখাটি ভূমিষ্ঠ করল—সেটা ধারণ করুক ঠাট্টা। সংবাদপত্রের খুন-খারাবির সংবাদের ভিড়ে একটুখানি রঙ্গরস পাঠকের চোখকে শান্ত করুক, চিত্তকে পরিতৃপ্ত। একদিন আমিও ঠাট্টারু ছিলাম, আমরা ছিলাম; একসময় আমরা থাকব না, ঠাট্টা যেন থাকে। যুগ যুগ জিও...।

 [ লেখক : কথাসাহিত্যিক ও বিভাগীয় সম্পাদক, বাংলাওয়াশ, দৈনিক খোলাকাগজ ]