একটি বিশেষ মানপত্র

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:০৪

 

বহুল প্রচারিত স্বনামধন্য পত্রিকা দৈনিক ‘ইত্তেফাক’-এর রম্য ট্যাবলয়েড ‘ঠাট্টা’ মহোদয়ের ৫০০তম সংখ্যা প্রকাশ উপলক্ষে ঠাট্টারুদের পক্ষ থেকে

শ্রদ্ধাঞ্জলি

হে মহান কাতুকুতু,

‘দিন যায় সপ্তাহ আসে, বছর জুড়ে পাঠক হাসে।’ হাসি হাসি পে-পু করে আপনি আজ পাঁচটি সেঞ্চুরি অতিক্রম করায়, আপনাকে জানাই আমাদের ঠাট্টাময় শুভেচ্ছা। সারা দেশে এখন কাঁথামোড়া শীতের নিরাশাজনক অনুপস্থিতি। গ্রামবাংলার সর্বত্রই পেঁয়াজের ঝাঁজালো গন্ধে অন্ধপ্রায় মানবকুল। চারদিক পঁয়তাল্লিশ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কেনার উত্সবে মুখর। অঘ্রানের এমনি এক মায়াবী লগ্নে ব্যাচেলর সম্প্রদায় যখন কাঙ্ক্ষিত প্রিয়জনকে বিয়ে করে কাছে পাওয়ার একান্ত বাসনায় অপেক্ষার প্রহর গুণছে; কিন্তু শীতের দেরিতে আগমনের কারণে পারছে না; ঠিক তখনই এক অনাবিল আনন্দের ঊর্মিদোলায় আমাদের আন্দোলিত করে এসেছে আপনার পাঁচশ’তম জন্মদিনের বার্তা। বিজয়ের মাসে আপনার এই জন্মদিনে পাঠকের ঠোঁটের কোণে যেন আজ হাসির বাহুল্য; সেই সঙ্গে কম শীতে ঠোঁট না ফাটার হর্ষধ্বনি যেন আপনার জন্মদিনের উল্লাসেই মুখর। আপনি আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন গ্রহণ করুন।

 

হে আনন্দের আধার,

আপনি কাগজ ও কালির আছড়ে পাঠকমনে যে আনন্দের বন্যা বয়ে দিচ্ছেন তাতে পাঠকসমাজ প্রতিনিয়ত হাবুডুবু খায়। এমন অল্প দামে ভালো কিছু খেতে পেরে পুরো জাতি আজ হাস্যরসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে কিছু ঠাট্টা অনলাইনে বিদেশেও রপ্তানি করছে।  আপনার নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার মান অতুলনীয়, কেননা আপনি কখনো রবিবার ছাড়া কিংবা মূলপত্রিকা ছাড়া একা একা বের হননি। আপনার নিরাপত্তাসচেতনতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আপনার এই অগ্রগতি বহাল তবিয়তে অটুট থাক, সেই কামনা করি।

 

হে বরেণ্য রম্যবিদ,

দেশজুড়ে যখন রম্য পাতা, ম্যাগাজিন, ট্যাবলয়েডগুলো বন্ধের হিড়িক লেগেছে, তখন আপনার পাঁচশ’তম জন্মদিন পাঠকসমাজে নতুন দিগন্তের সূচনা করে। মনে করিয়ে দেয় আপনার উদারতা ও মহানুভবতার কথা। আপনার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে ধারাবাহিকভাবে এত বড়ো মাইলফলক স্পর্শ করতে কিছু মানুষ কাগজ, কলম ও কিবোর্ডে রাতকে দিন করে নিয়মিত রসদ জুুগিয়ে যাচ্ছেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আজকাল পোস্ট অফিসের পিয়ন তাদের ঠিকানা ভুলে যাচ্ছে, ব্যাংকের ক্যাশিয়ার তাদের চেহারা ভুলে যাচ্ছে। আজ আনন্দের এই লগনে তাদের প্রতি আপনার মহানুভবতার সামান্যতম সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

হে মহান হাসির হাঁড়ি,

শত ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে আপনি প্রতি রবিবার পাঠকদের মাঝে এসে যে মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আশা করি, এভাবেই সপ্তাহে সপ্তাহে বের হয়ে আপনি সংখ্যায় পাঁচশ থেকে পাঁচ কোটিতে পৌঁছে যাবেন। আজ আমরা লিখছি, আগামীতে আমাদের নাতি, পুতি, তুতি, লুতি... যেন আপনার জন্য দশ আঙুল ভরে লিখতে পারে, সে জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আপনার ঠাট্টাময় দীর্ঘজীবনের প্রার্থনা।

 

তারিখ :১৫ ডিসেম্বর ২০১৯                           

 

আপনার গুণমুগ্ধ সকল ঠাট্টারুদের পক্ষে

শামসুল হক শামস্