তারেকুর রহমান
দেখতে দেখতে ঠাট্টা ৫০০তম সংখ্যা প্রকাশিত হলো। এই দীর্ঘ যাত্রায় ঠাট্টা নানা মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এরকম কিছু মানুষকে আমরা হাজির করবো যাদের জীবনকে পরিবর্তন করে দিয়েছে ঠাট্টা
ঠাট্টা আমাকে উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করেছে -গণি মিয়া
আমি তখন বেকার। পকেটে টাকা নাই। একমাত্র ভরসা টিউশনি। টিউশনিতে গেলে নাস্তার জন্য ওয়েট করতাম। মাঝেমাঝে নাস্তা না দিলে মেজাজ গরম হয়ে যেতো। একদিন নাস্তা না দেয়ায় রাগ করে স্টুডেন্টকে খুব মাইর দিই। সেদিনই আমার টিউশনি চলে যায়। টিউশনির সাথে সাথে আমার প্রেমিকাও আমাকে ছেড়ে চলে যায়। পকেটে টাকা না থাকলে প্রেমিকা কিভাবে থাকবে? সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো সে আমার বন্ু বদরুলের সাথে চুটিয়ে প্রেম করতে থাকে। রাগে ক্ষোভে আমি বাদাম বিক্রি শুরু করি। যেভাবেই হোক আমাকে টাকা ইনকাম করতে হবে।
একদিন আমি পার্কে বাদাম বিক্রি করতেছিলাম। হঠাত দেখলাম এক দম্পতি আসলো বেশ বিষন্ন মনে। বুঝলাম বাসায় তাদের ঝগড়া হয়েছে। স্বামী খুব চেষ্টা করছে স্ত্রীর রাগ ভাঙাতে কিন্তু কিছুতেই স্ত্রীর রাগ ভাঙাতে পারেনি। আমার কাছ থেকে পাঁচ টাকার বাদাম নিয়ে স্ত্রীকে দিলো তার স্বামী। কিছুক্ষণ পর দেখি মেয়েটি হাসতে হাসতে কাহিল হয়ে গেলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই মেয়েটির স্বামী আবেগে কেঁদে দেয়। এত কষ্টের পর তার স্ত্রী হেসেছে। কেন হাসলে জিজ্ঞেস করে তার স্ত্রীকে। স্ত্রী বলে বাদামের ঠোঙ্গাটিতে হাসির একটা লেখা পেয়েছি তা পড়েই হাসছি। আমি দেখি বাদামের ঠোঙ্গাটি ঠাট্টা দিয়ে বানানো। মেয়েটির স্বামী আমাকে বলে,তোমার কারনে আজ আমার স্ত্রীর মুখে হাসি ফুটেছে। তুমি যা চাইবে তাই পাবে। আমি বেশি কিছু চাইনি, এই শুধু ঢাকায় বাদাম বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত টাকা চেয়েছি। তার টাকায় এখন আমি উদ্যোক্তা হয়েছি। আমার প্রতিনিধিরা এখন ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বাদাম বিক্রি করছে। আমি ঠাট্টার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।
ঠাট্টার মাধ্যমেই আমাদের প্রেম হয় -শেফালি
তখন ভার্সিটতে নতুন ভর্তি হই। ভালো করে সবাইকে চিনিনা। স্টাডি রুমে পত্রিকা রাখা আছে। আমি প্রায়ই গিয়ে সেখানে পত্রিকা পড়তাম। রবিবার আসলে একটা মজার ঘটনা ঘটতো। একটা ছেলে পত্রিকা পড়ে হা হা করে হাসতো। আমিতো ভাবতাম ছেলেটা হয়ত পাগল। এক রবিবারে তার কাছে গিয়ে দেখলাম সে কি পড়ে হাসে। দেখি ঠাট্টা পড়ে হাসে। আমি ভাবলাম এটা পড়ে এত হাসির কি আছে? আমি ছেলেটিকে বললাম আমি কি ঠাট্টা পড়তে পারি? সে বলল, অবশ্যই। এরপর আমি ঠাট্টা পড়তে লাগলাম। আমি মনের অজান্তে হো হো করে হাসতে লাগলাম। হঠাত মনে হলো আমি হাসছি কেন? বিষয়টা ভেবে লজ্জা পাই। এরপর থেকে প্রতি রবিবার আমরা দুজনেই ঠাট্টা পড়তাম আর হাসতাম। ঠাট্টা পড়তে পড়তে কিভাবে যে আমাদের প্রেম হয়ে গেল টেরই পেলাম না। ঠাট্টাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের দুজনকে কাছে আনতে সহযোগীতা করার জন্য।
ঠাট্টা আমাদের হাসিখুশির খোরাক -বদরুল
ব্যাচেলর লাইফে অনেক কিছুর অভাব থাকে। যেদিন থেকে ঠাট্টা আমাদের ঘরে এলো সেদিন থেকে আমাদের অভাব অনেকটা কেটে গেল। আনন্দ পেতে নিয়মিত ঠাট্টা পড়ি। বাসায় বুয়া না এলে খালি পেটে থাকতে হয়। ঠাট্টা আসার পর আর খালি পেটে থাকতে হয় না। কী ভাবছেন? ঠাট্টা চিবিয়ে খাই? না আসলে তা না। ঠাট্টা পড়েই দিন কাটিয়ে দিই। বারবার রিভিশন দিই। এভাবেই দিনটা কেটে যায়। খাওয়ার কথা আর মনেই থাকে না। ঠাট্টার সুন্দর সুন্দর গল্পগুলো আমার প্রেমিকাকে বলি। অবশ্য সেটা আমি নিজের নামেই চালিয়ে দিই। আমার প্রেমিকা তো হাসতে হাসতে কাত হয়ে যায়। একদিন তো তার হাসতে হাসতে কাশি শুরু হয়ে যায়। কাশি তো আর থামছেই না। আশপাশের লোকজন অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। একজন তো বলেই ফেলল, মেয়েটা কি যক্ষা রোগী নাকি? তা যাই হোক, সে বলে আমি নাকি অনেক ইউনিক ছেলে। অথচ সে জানে না এগুলো আমি ঠাট্টা থেকে কপি করেই বলছি। ঠাট্টা একটু পুরোনো হলে আমার খাটে বিছিয়ে দিই। বেশ আরাম পাওয়া যায়।
