ঠাট্টার সাফল্যে গুণীজনদের বাণী

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:০৭

 

এদেশে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বেশিদূর এগোনো যায় না। এমনকি দৌড়েও খুব একটা পথ এগোনো যায় না। এগোতে হলে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়। আর তাই মাটি কামড়ে পড়ে থেকেই ঠাট্টা ৫০০তম সংখ্যা পার করে দিয়েছে। বাংলাদেশের রম্য চর্চা ইতিহাসে এ যেন এক নতুন মাইলফলক। বিশাল ব্যাপার। আর তাই তো বিশ্বের গুণীজনেরা ঠাট্টাকে শুভেচ্ছা বাণী পাঠাতে বিন্দুমাত্র লেট করেনি। তাদের শুভেচ্ছা বাণীগুলো সংগ্রহের দুঃসাহস করেছেন জামসেদুর রহমান সজীব। চলুন পড়া যাক—

 

সারাজীবন খালি টেকা-টুকার পেছনেই ছুটে গেলাম। বিশ্বের ধনী মানুষের তালিকায় কতবার যে প্রথম স্থানে গেড়ে বসেছি তার কোনো ইয়ত্তা নাই। কিন্তু মাঝে মাঝে চিন্তা করি এই যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ইনকাম করলাম, ইনকাম করে জীবনে কী করলাম! সোসাইটিতে খুব একটা পরিবর্তন আনতে পারলাম না। ব্যাপারটা কষ্টদায়ক। তবে যখন দেখি ‘ঠাট্টা’ হাজার হাজার মানুষকে হাসাচ্ছে, বিনোদন দিচ্ছে, রম্য চর্চার সুযোগ করে দিচ্ছে, নিজের কাছে ভালো লাগে খুব। ঠাট্টা শুধু ৫০০তম সংখ্যাই নয়, ১০০০তম সংখ্যাও ছাপিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা। প্রয়োজনে যত টাকা লাগে আমি দিই কি না সন্দেহ, তবুও মন থেকে দোয়া করি। শুভেচ্ছা ঠাট্টাকে।

—বিল গেটস, মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা

 

সবাই আমাকে আনসোশ্যাল বল তো বলে আমি সোশ্যাল সাইট ফেসবুক আবিষ্কার করি। তবে ফেসবুক আবিষ্কার করেও আমি যে সোশ্যাল হতে পেরেছি, তা নয়। দায়িত্ব বেড়েছে, কাজ বেড়েছে। জীবনটা ধীরে ধীরে গুরুগম্ভীর হয়েছে। তার উপর চাইনিজ মেয়ে বিয়ে করে সে আরেক ফ্যাসাদে পড়েছি। এই বিরস জীবনে নিখাদ বিনোদন বলতে আমি কেবল ঠাট্টাকেই পেয়েছি। শুধু ঠাট্টার কনটেন্ট আর লেখার কথা চিন্তা করে আমি হা হা রিঅ্যাক্ট চালু করেছি যেন সকলে ঠাট্টার অফিশিয়াল গ্রুপ আর পেজের সকল পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। ঠাট্টা সাফল্যের সঙ্গে আরো বহুদূর এগিয়ে যাক, এটা কেবল প্রত্যাশাই নয়, আমার অফিশিয়াল স্ট্যাটাস। লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন।

—মার্ক জুকারবার্গ, ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা

 

সেদিন নিউক্লিয়ার বোম নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলাম নিজের অফিসে, এমন সময় অফিসের লোকজনদের বলাবলি করতে শুনলাম ঠাট্টা নাকি ৫০০তম সংখ্যা ক্রস করবে। ভাবতেই শিউরে উঠলাম। এই দুনিয়ায় নিউক্লিয়ার বোমের চাইতেও পাওয়ারফুল হলো মানুষের হাসি। মানুষ হাসি দিয়ে এমন কোনো কাজ নেই, যা করিয়ে নিতে পারে না। অনলাইনে বাঙালি নারীর হাসি দেখে আমি যে কতবার কুপোকাত হয়েছি সে ঘটনা বলে শেষ করার মতো নয়। যাই হোক, অনেক হিসাবনিকাশের পর দেখলাম আমার কাছে যতগুলো নিউক্লিয়ার বোম আছে, সংখ্যায় তার চেয়েও ঠাট্টার বহু সংখ্যা ছাপা হয়েছে। এ বিশাল ব্যাপার। ঠাট্টার সঙ্গে জড়িত সকলকে অভিনন্দন। সেইসঙ্গে ব্লু হাউসে আপনাদের চায়ের দাওয়াত রইল।

—ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

 

ছোটবেলা থেকেই কমেডির প্রতি খুব ঝোঁক ছিল আমার। মূলত একজন রম্যলেখকই হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হাতের লেখা খারাপ হওয়ায় কী লিখতাম, তা কেউ বুঝে উঠতে পারত না। পরে কৌতুক অভিনেতা হওয়ার চেষ্টা করেছি। সেখানেও বিফল। সেই সময়ে বাংলাদেশি কৌতুক অভিনেতা দিলদার পুরো এশিয়া কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। মানুষকে হাসানোর মতো ক্ষমতা তখন কেবল বাংলাদেশিদের মধ্যেই দেখতে পেয়েছিলাম। কৌতুক জগতে কিছু করতে না পেরে পরে রোমান্টিক হিরো হতে হলো আমাকে। বলিউডের বাদশা খেতাব পেলাম। তবে এখন যখন রম্য জগতের দিকে তাকাই, ঠাট্টা ছাড়া চোখে আর কিছু পড়ে না। রম্য জগতের বাদশাহ হলো ঠাট্টা। ৫০০তম সংখ্যা অতিক্রম করায় তাই ঠাট্টাকে অনেক অনেক অভিনন্দন।

—শাহরুখ খান,

বলিউড অভিনেতা