প্রচারে বলেছিলেন ১০ দিন। ক্ষমতায় আসার পর সময় নিলেন এক দিন। মধ্যপ্রদেশ-ছত্তীসগড়ে কৃষিঋণ মওকুফকে হাতিয়ার করে ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী। হুঁশিয়ার করে কংগ্রেস সভাপতি বললেন, দেশের সব কৃষকের ঋণ মওকুফ না হওয়া পর্যন্ত মোদীকে ঘুমাতে দেব না। এ সময় রাফাল, নোটবন্দি নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
শাসকবিরোধী হই-হট্টগোলে সোমবার সংসদের উভয় কক্ষের কাজকর্ম দফায় দফায় ব্যাহত হয়। মঙ্গলবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকালে শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মুলতবি হয়ে যায় লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন। সংসদ ভবন থেকে বেরনোর মুখেই সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, নোটবন্দি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। গরিব, কৃষক, ক্ষেতমজুর ছোট দোকানদারদের টাকা লুট করেছে মোদী সরকার। সাড়ে চার বছরে লুট হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা। সেই টাকা ঢুকেছে মোদী এবং বিজেপি ঘনিষ্ঠ ১৫-২০ জন শিল্পপতির পকেটে।
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তীসগড়ে ভোটের প্রচার অভিযানের সময় রাহুল বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে ১০ দিনের মধ্যে কৃষিঋণ মওকুফ করে দেবে কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশে কমল নাথ এবং ছত্তীসগড়ে ভূপেশ বঘেল শপথ নেওয়ার দিন সোমবারই কৃষিঋণ মওকুফ করে দিয়েছেন। রাজস্থানেও মওকুফ করার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়টি যে আগামী লোকসভা নির্বাচনে হাতিয়ার করবেন রাহুল সেটি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। রাহুল বলেন, মোদী সরকার কৃষিঋণ মওকুফ করেনি। বরং উল্টো বড় শিল্পপতিদের ঋণ দিয়েছে। তারা দেশের গরিব মানুষের টাকা লুট করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। তিন রাজ্যের ভোটে কৃষক দিনমজুরদের জয় হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কৃষিঋণ মওকুফ নিয়েই এদিন সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন রাহুল। এ দিন তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতে দুটি বিকল্প ছিল— কৃষকদের ঋণ মওকুফ করা অথবা গরিবের টাকা লুট করে বড়লোকদের পকেটে ঢোকানো। মোদী প্রথম বিকল্পই বেছে নিয়েছেন। নোট বাতিল করেছেন, জিএসটি চালু করেছেন। ফলে গরিব মানুষের কষ্টার্জিত টাকা লুটে নিয়েছে সরকার। আর সেই টাকা অনীল আম্বানী, জয় শাহ্র মতো ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিলিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাফাল নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি কটাক্ষ করে বলেন, এখন তো ‘টাইপো এরর’ (ছাপার ভুল) বেরোবে। রাফালে বেরিয়েছে, এবার নোটবন্দি, ব্যাংক ঋণ সব কিছুকেই টাইপো এরর বলে চালানোর চেষ্টা হবে।
