বড়দের পরিপাক তন্ত্রের সঙ্গে বাচ্চার পরিপাক তন্ত্রের কিছুটা ভিন্নতা আছে। বড়রা অনেক খাবার খেলে সেগুলো হজম করে ফেলতে পারে, অনেক সময়ই কিন্তু বাচ্চারা তা পারে না। আর তাদের এই হজমের সমস্যা থেকেই পেটে ব্যথা, বমি, গ্যাস্ট্রিক—সব কিছু মিশেমিশে বেশ জটিলতা দেখা দেয়। বাইরের খাবারদাবার কমিয়ে বাড়ির পুষ্টিকর খাবার যথাযথ পরিমাণে খাওয়ান। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সারাদিনের খাবার ভাগ করে দিন। দেখবেন বাচ্চার হজমের সমস্যা অনেকটাই সমাধান করতে পেরেছেন।
যে কারণে হয়
l অতিরিক্ত জাঙ্কফুড ও বাইরের খাবার খাওয়ার কারণে বাচ্চাদের মধ্যে গ্যাস্ট্রোইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ সমস্যা দেখা যায়। এক বছরের বাচ্চা থেকে বড় বাচ্চাদের মধ্যেও তাই হজমের গোলামাল দেখা যায়। আর এখন দু-তিন বছরের বাচ্চারাও জাঙ্ক ফুড খাচ্ছে। টিফিনে চিপস, ফ্রায়েড স্ন্যাকস দেওয়া হয়। হজমের গোলামালের সঙ্গে বাচ্চাদের পেটে ব্যথা, বমি হয়। এই বয়সের বাচ্চাদের হজমের সমস্যা হচ্ছে, সেটা অনেক মা-বাবাই বুঝতে চান না।
l ঠিক সময়ে না খেলে, অনেক সময় খালি পেটে থাকলেও হজমের সমস্যা দেখা যেতে পারে। ধরুন সকালে খাবার খাওয়ার পরে স্কুলে গেল। তারপর টিফিন খেলই না। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে এল। এই যে এতক্ষণ একটা গ্যাপ থেকে গেল, এতে অ্যাসিড সিক্রেশন বাড়ছে, সেখান থেকে গ্যাসট্রাইটিস ডেভলপ করছে। জাঙ্ক ফুড থেকে অনেক সময় পেটে ইনফেকশনও হচ্ছে। ইনফেকশন থেকে ডায়ারিয়া হতে পারে। বারবার ইনফেকশন হলে বাচ্চার হজম ক্ষমতা, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।
l কৃমি থেকে পেট ব্যথা হওয়া বাচ্চাদের মধ্যেই সব থেকে বেশি দেখা যায়। কৃমি এক ধরনের প্যারাসাইট, যা শরীরে ঢুকে সাধারণত অন্ত্রে বাসা বাঁধে। আপনার বাচ্চা যা খাচ্ছে তার ওপর কৃমি বেঁচে থাকে এবং বড় হয়। এইভাবেই ক্রমশ কৃমির বংশ বৃদ্ধি হতে থাকে। স্টুল টেস্ট করে বোঝা যায় কৃমি হয়েছে কি না। কৃমির প্রধান চিকিত্সা ডিয়ওর্মি। তবে শুধু বাচ্চার ডিয়ওর্মি করালেই হবে না। ছয় মাস অন্তর বাড়ির বাচ্চার সঙ্গে বাড়ির সকলের ডিওয়র্মি করা জরুরি।
প্রতিরোধ
l ছয় মাসের পর বাচ্চা প্রথম সলিড ফুড খেতে শুরু করে। ন’মাস পর্যন্ত দিনে তিনবার সেমিসলিড খাবার খাওয়া জরুরি। ন’মাসের পরে দিনে চারবার সেমিসলিড খাবার খাওয়া উচিত। বাচ্চা সলিড খাবার না খেলে শুধু দুধ খাইয়ে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। এতে হয়তো ওজন বাড়বে, কিন্তু বাচ্চার হজম ক্ষমতা গড়ে উঠবে না। পরবর্তীকালে বাচ্চাদের হজমের ক্ষমতা কমে যাবে।
l অনেক মা-বাবাই ভাবেন যে বেশি খেলেই বোধহয় ভালো। বেশি খাওয়া নয়, বরং ব্যালেন্সড ডায়েট জরুরি।
l বাচ্চাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব বোঝান। খাওয়ার আগে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধোয়া, নোংরা হাত মুখে না দেওয়া, বাইরে থেকে খেলে এসে হাত-পা ধুয়ে নেওয়া ইত্যাদি ছোটবেলা থেকেই শেখানোর চেষ্টা করুন।
l কৃমি থাকুক বা না থাকুক বাচ্চাদের তিন মাস অন্তর ডিওয়র্মি করা
জরুরি।
