বাংলাদেশ হেরিটেজ ক্রাফট ফাউন্ডেশন, গুলশান সোসাইটি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গত ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর গুলশান লেক পার্কে (রোড-৬৩, গুলশান-২) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি দিবস উপলক্ষে উদযাপিত হয়েছে ‘শীতকালীন আনন্দমেলা-২০১৯’। এই মেলায় দেশীয় পণ্য প্রদর্শনের লোকনৃত্য, লোকসংগীত, ফ্যাশন শো, ঐতিহ্যবাহী মার্বেল ও লাট্টু খেলা, বায়স্কোপ, বাঁদর নাচ, পিঠাপুলি, বিভিন্ন রকমের দেশীয় খাবার স্টল।
বাংলাদেশ হেরিটেজ ক্রাফট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি টুটলী রহমানের পরিকল্পনায় প্রথমবারের মতো আকর্ষণীয় এই আয়োজন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানের প্রথম দিন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং দ্বিতীয় দিন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মাজিদ মাহমুদ হুমায়ুন প্রধান অতিথি ছিলেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এবং নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারউয়িজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি শাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ এবং মেজর জেনারেল হামিদ আর. চৌধুরী।
এবারের আয়োজনটি বিশেষভাবে উত্সর্গ করা হয় আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের শহিদ বুদ্ধিজীবীদের। অন্যান্য আয়োজনের পাশাপাশি সংযোজন করা হয়েছিল এক বর্ণীল ক্যানভাস। খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী জামাল আহমেদের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতাসংগ্রাম, জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার সুযোগ্যা কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন এ চিত্রকর্মে তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ হেরিটেজ ক্রাফটস ফাউন্ডেশন হলো একটি অলাভজনক ভিত্তি, যা কারুশিল্পের শত শত বছরের ঐতিহ্য এবং মূল্যবান সম্পদগুলোকে পুনরুজ্জীবিতকরণ ও বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই ভিত্তি সহজেই বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বিপুলসংখ্যক দক্ষ ও বিলুপ্তপ্রায় কারুশিল্প কারিগরদের আয় বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত মানোন্নয়নে সহযোগিতা করে।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা আমাদের দেশের বিলুপ্তপ্রায় কারুশিল্পের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এবং দেশি পণ্য ব্যবহার করার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ ও অনুপ্রাণিত করেন।
