চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে ইলেক্ট্রোনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। এই আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে রাখা ইভিএম মেশিনে ভোটাররা ভোট দিয়ে এই পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত হচ্ছেন। এই পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। গতকাল নগরীর রেলওয়ে হাসপাতাল স্কুল, এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ-সহ এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম-এ পরীক্ষামূলক ভোট প্রদান করতে আসেন বিভিন্ন কেন্দ্রের বিভিন্ন বয়েসী নারী-পুরুষ ভোটাররা।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীসহ তিন বাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভোট কেন্দ্রসমূহে ইভিএম প্রদর্শন এবং পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে ভোটাররা এই পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক ভোট প্রদানের জন্য আসতে শুরু করেন। চট্টগ্রাম-৯ আসনের ১৪৪টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ২৮৮টি ইভিএম মেশিন তিন বাহিনীর সদস্যদের কাছে দেয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা থাকায় এই আসনের ৫টি স্কুলের নির্ধারিত কেন্দ্রে গতকাল ইভিএম-এ পরীক্ষামূলক ভোট করা যায়নি। এসব কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরে শুরু করা হবে। আপাতত প্রতি কেন্দ্রে ২টি করে ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোটারদের এই পদ্ধতির সাথে পরিচিত করে তুলতে পরীক্ষামূলক ভোট (মক ভোটিং) গ্রহণ করা হচ্ছে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে আঙ্গুলের ছাপ, স্মার্ট কার্ড, পুরনো এনআইডি কার্ড অথবা পুরনো ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করা হবে। স্মার্ট কার্ড পাঞ্চ করে, আঙ্গুলের ছাপ অথবা আইডি নম্বর যেকোনো একটি কম্পিউটারে দেয়ার পর ভোটারের পরিচিতি প্রোফাইল স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। এরপর বুথে রাখা একটি ইভিএম মেশিনে প্রার্থী নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে প্রার্থীর মার্কা নিশ্চিত করে সু্ইচ টিপে ভোট প্রদান করবেন। বৃদ্ধ এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য সেই ভোটারের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভোটদানে সহায়তা করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪৪টি। ভোটকক্ষ আছে ৭৪৩টি। মোট ভোটার তিন লাখ ৯১ হাজার ৬১২ জন। এর মধ্যে দুই লাখ চার হাজার ৪০৩ জন পুরুষ এবং এক লাখ ৮৭ হাজার ২০৯ জন নারী ভোটার। ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে শুধু এই আসনেই ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।
