পশ্চিমের জেলাগুলোতে হাটবাজার ভরে গেছে শীতকালীন সবজিতে। তবে সবজির দরপতনে চাষিরা হতাশ। হাটবাজারগুলোতে পাইকারি কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা, ফুলকপি প্রতি কেজি ৭-৮ টাকা, বাঁধাকপি ৯-১০ টাকা ও পেঁপে ৫-৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রবিবার ঝিনাইদহ সদর হাট ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৯-১০ টাকা ও ফুলকপি ৮ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপি ৯ টাকা থেকে ১১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হরিণাকুন্ডু উপজেলা শাখারিদহ গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, ইবার ১০ কাঠা জমিতে ঝালের আবাদ করিছি। ঝাল জমি থেকে তুলতি নেচ্ছে ৫ টাকা কেজি। আর বাজারে আসে বিক্রি করলাম ৬ টাকা কেজি। একুন খরচ উটায় দায়। হাটে আগত অন্য মরিচ চাষিরাও একই কথা বলেন।
সনাতনপুর গ্রামের চাষি আব্দুল বারেক বলেন, ৪৫ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে ১৫/ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। বাজারে আমদানি বাড়ার পর দাম কমতে থাকে। বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ হাটে ২শ’ ফুলকপি এনেছিলেন। ক্ষেত থেকে কপি তুলতে কামলা নিয়েছে ৫শ’ টাকা। ভ্যান ভাড়া লেগেছে ২শ’ টাকা। ৬ টাকা কেজি দরে কপি বিক্রি করে ১২শ’ টাকা পেয়েছেন। মথুরাপুর গ্রামের সবজি চাষি আব্দুল জলিল বলেন, অসময়ে এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করে এক লাখ টাকা আয় হয়েছিল। এখন খরচের টাকা উঠবে না। মরিচের দাম পড়ে যাওয়ায় ক্ষেত থেকে তুলছেন না। মুলাও ৭/৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। পেঁপে ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা সবজির দরপতনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক চন্ডি দাস কুন্ডু বলেন, ইতোমধ্যে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। উত্পাদন ভালো হচ্ছে। যে কারণে দর কমেছে বলে তিনি জানান।
