ক্যাম্পাস যেমন চাই...

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩০

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ৪১ বছরে পদার্পণ করেছে দেশের বিশেষায়িত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। একসময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ভর্তির অধিকার ছিল না। কালক্রমে ভর্তির সুযোগ পেয়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা সুনাম কুড়িয়ে আনছে। ক্যাম্পাসের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে মতামত তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা। লিখেছেন— মো. আখতার হোসেন আজাদ

তানজিনা আক্তার জেবিন

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী 

ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর থাকে যদি ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতিতে সুষ্ঠু পরিবেশ বিদ্যমান থাকে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিপক্ষ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের আতঙ্কিত করে। সকল মত-আদর্শের ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ হওয়া উচিত। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত ভর্তি ফি কমানোর দাবি বিবেচনা করা উচিত। ইউজিসির সন্ধ্যাকালীন কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়াও নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

 

রেবেকা সুলতানা দিনা

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার আদর্শ স্থান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এমন হওয়া উচিত যেন প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে কিছু না কিছু অর্জন করতে পারি। আদর্শ শিক্ষার্থী গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন আদর্শ শিক্ষক। আদর্শ শিক্ষকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি জীবনমূখী জ্ঞান প্রদান করা। বিশ্ববিদ্যালয় অপসংস্কৃতির চর্চা রুখে দেশীয় ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রস্থল হওয়া উচিত। বহিরাগতদের আড্ডাখানা মুক্ত নির্মল ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণে জোর দাবি জানাই।

 

সাদিয়া ইসলাম

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী 

ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগ

 

দূর্নীতি ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ আমাদের প্রাণের দাবি। সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি আদর্শ ও চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ছাত্র-শিক্ষকের মিলনমেলার ক্ষেত্র তৈরি করা উচিত। পরিবহননির্ভর ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

 

সাথী খাতুন

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ

 

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের সর্বত্র ইন্টারনেট সুবিধা গড়ে তোলার পাশাপাশি আবাসিক হলসমূহে ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করতে হবে। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন করতে হবে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবীদের শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ বাড়াতে হবে।

 

সুরাইয়া জেবিন

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী 

উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ

 

বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি স্থান যেখানে আমরা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের জন্য আবশ্যকীয় শিক্ষা অর্জন করে থাকি। তাই ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর, সাবলীল এবং পরিচ্ছন্ন হওয়া জরুরি। গবেষণাক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি; গবেষণাক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তির চর্চা না করে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকরী ভূমিকা কাম্য।