চীনের এশিয়ান-আফ্রিকান ইয়ুথ ফেস্টিভালে

বাংলাদেশের সেঁজুতি

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৬

  নিলয় মামুন

 

৬৯টি দেশের ৩৫০ জন তরুণ প্রতিনিধি নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান আফ্রিকান ইয়ুথ ফেস্টিভাল ছিল বিশ্ব তারুণ্যের এক মিলনমেলা। যেখানে বাংলাদেশের হয়ে নেতৃত্ব দেন রুবাইয়া নাসরীন সেঁজুতি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে সদ্য মাস্টার্স শেষ করা সেঁজুতি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন দেশকে। এশীয়-আফ্রিকা ইয়ুথ ফেস্টিভালের মূল লক্ষ্য ছিল ‘সংহতি, বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতা’কে সামনে নিয়ে দুইটি মহাদেশের তরুণদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং মূল্যবোধ আদান-প্রদানের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করা। এই বছর সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে চীন কমিউনিস্ট ইয়ুথ লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, অল চায়না ইয়ুথ ফেডারেশন এবং এশিয়ান ইয়ুথ কাউন্সিল। এই সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে ছিল চায়না ইয়ুথ সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ। এশিয়া মহাদেশভুক্ত ৩৪টি দেশ থেকে ১৯৯ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। দেশগুলো হলো— আফগানিস্তান, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, ব্রুনাই দারুসসালাম, কম্বোডিয়া, উত্তর কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিংগাপুর, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, আরব আমিরাত এবং    ভিয়েতনাম।

অন্যদিকে আফ্রিকার ৩৪টি দেশ থেকে এসেছিল ১৪৮ তরুণ প্রতিনিধি। দেশগুলো হলো— আলজেরিয়া, বতসোয়ানা, বুরকিনা ফাসো, বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, শাদ, কঙ্গো, মিশর, গ্যাবন, জাম্বিয়া, ঘানা, কেনিয়া, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মাদাগাস্কার, মালাওয়ি, মালি, মরক্কো, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুদান, টোগো, তিউনিসিয়া, তাঞ্জানিয়া, গাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে। আরো অংশ নিয়েছিল পাঁচ ইউরোপীয় প্রতিনিধি। তারা এসেছিল বুলগেরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স এবং রাশিয়া থেকে।

বাংলাদেশের নেতৃত্বে থাকা তরুণ প্রতিনিধি সেঁজুতি জানান, চীনের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যমণ্ডিত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করার সুযোগ পাই আমরা। বেইজিং এক্সিবিশন সেন্টারে গিয়ে চীনের হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রচুর তথ্য জানতে পারি। গণচীনের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেখানেও ছিল ব্যাপক আয়োজন। এছাড়াও আমাদের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়, চায়না কমিউনিকেশন কনসট্রাকশন কোম্পানি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আরো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করার সুযোগ পেয়েছি। ফেস্টিভালের মূল পর্বে বক্তব্য রাখেন সিওয়াইএলসির ফার্স্ট সেক্রেটারি হি জুনকে এবং গ্রেট সিল্ক ওয়ের প্রেসিডেন্ট              আইতান আলিয়েভা। এছাড়া তরুণদের আন্তদেশীয় উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন এশিয়া-আফ্রিকা ইয়ুথ এন্ট্রাপ্রেনিওরশিপ ফোরামের মডারেটর লিউ কাই, অল চায়না   ইয়ুথ ফেডারেশনের নির্বাহী পরিচালক লিউ ফ্যান। যিনি চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সাইন্সেসের সহযোগী অধ্যাপক। তাদের বক্তব্যের মূল কথা ছিল একটি ঐক্যবদ্ধ এবং একক এশিয়া গঠন করা। যা আগামী প্রজন্মের তরুণদের বিশ্বায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করবে। এছাড়াও বিশ্বায়নে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে              চীনের এক বেল্ট-এক সড়ক উদ্যোগের গুরুত্ব সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।

রুবাইয়া নাসরীন সেঁজুতি বলেন, এশিয়া-আফ্রিকা ইয়ুথ ফেস্টিভাল একটি দারুণ প্ল্যাটফরম ছিল, যেখানে বিশ্ব তারুণ্যের মধ্যে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও মূল্যবোধের এক অভূতপূর্ব আদান-প্রদান সংঘটিত হয়। এই উদ্যোগ গণচীনের ৭০ বছরের সংগ্রামী এবং অসাধারণ উন্নয়নের এক চমত্কার চিত্র তরুণদের সামনে তুলে ধরেছে। শুধু আমি নই, অংশগ্রহণকারী সব তরুণ এই ফেস্টিভাল থেকে চীন সরকারের তারুণ্যের এবং বিশ্বের উন্নয়নের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি তা সম্পর্কে জানতে পেরেছে। এই ধরনের উত্সব এশিয়া এবং আফ্রিকার তরুণদের বিশ্বায়ন এবং বিশ্বের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে বলে মনে করছি।