মাহবুব নাহিদ
কর্মক্ষেত্রে সিগারেট খাওয়ার জায়গা থাকে; কিন্তু বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জায়গা থাকে না। এটা নারীর জন্য অত্যন্ত কঠিন এবং শিশুর ভবিষ্যতের জন্যও হুমকি। এই বিষয়টাকেই আইনি কাঠামোতে আনার জন্য লড়াই করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম সর্বকনিষ্ঠ শিশু পিটিশনার হিসেবে রেকর্ড করে তার সন্তান উমাইর বিন সাদী। এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশই নয় সারা পৃথিবীতে বিরল। এই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট থেকে ব্রেস্ট ফিডিং রুম স্থাপনে রুল জারি হয়েছে। আইনজীবী ইশরাত হাসান শুধু এই একটি বিষয় নয়, তিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন বহু বিষয় নিয়ে আদালতে লড়েছেন।
আইনজীবী ইশরাত হাসানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তার পৈতৃক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার শাহবাজপুর গ্রামে। তার দাদা ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। সেই সুবাদে তার পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করে। তিনি আইন পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার দাদা একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তার বাবা রাশিদুল হাসান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তার মা তাসলিমা রশিদও আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তার ছোটোবোন ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়াশোনা করছেন। ছোটোভাই দশম শ্রেণির ছাত্র, সেও হয়তো আইনেই পড়বে। তাদেরকে একটা আইন পরিবার বলা যায়।
ছোটোবেলা থেকেই দাদা ও বাবাকে দেখে আইন পেশায় আসতে উদ্বুদ্ধ হন। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে আইন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম করার পর তার পিতার অধীনেই আইন পেশা শুরু করেন।
মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবী হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হন এবং মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি হাইকোর্টে প্রাকটিস করার অনুমতি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় ৯০০টির অধিক মামলা পরিচালনা করেন। এছাড়াও তার অসংখ্য আরটিকেল ও আইনি মতামত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যার সংখ্যা প্রায় ১৭০টি। এজন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিঠান থেকে পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৬ সালে তিনি জনস্বার্থে প্রথম রিট করেন। রিটের বিষয় ছিল বনশ্রীর একটি উচ্ছেদ অভিযান। উক্ত উচ্ছেদ অভিযানে বসবাসের জায়গা ব্যতীত সব কিছু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়; কিন্তু একটি এলাকায় তো বিভিন্ন দোকানপাটসহ অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। তাই জনস্বার্থে তিনি এগিয়ে আসেন এবং জয়লাভ করেন। জীবনের বাঁকে বাঁকে তিনি অনিয়ম দেখেছেন আর তার জন্য লড়াই করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, বাচ্চার জন্য ডে কেয়ার আর কর্মক্ষেত্রে ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার না থাকলে নারীর ক্যারিয়ার আর বাচ্চাদের ভবিষ্যত্ হুমকির সম্মুখীন হয়।
