শ্রমিক পরিবারের মেয়েটিই বিশ্বের কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী!

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৮

>>  জাহিদ হাসান দিপু

 

বংশে তিনিই প্রথম পেরিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি। তখনো কেউ ভাবতে পারেননি, একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন শ্রমিক পরিবারের মেয়েটি। ৩৪ বছর বয়সে দায়িত্ব নিয়েছেন ফিনল্যান্ডের। শুধু ওই দেশেরই নন, সানা ম্যারিন বর্তমান বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী। গত ৮ ডিসেম্বর সোশ্যাল ডেমোক্রেট দল থেকে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী সানা মেরিন। এর আগে তিনি দেশটির পরিবহনমন্ত্রী ছিলেন।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে সানার জন্ম ১৯৮৫ সালের ১৬ নভেম্বর। জন্মগত নাম সানা মিরেলা ম্যারিন। ১৯ বছর বয়সে ২০০৪ সালে তিনি হাইস্কুল উত্তীর্ণ হন। তিন বছর পরে স্নাতক হন ইউনিভার্সিটি অব ট্যাম্প্রে থেকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সায়েন্স বিষয়ে। রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ২৭ বছর বয়সে। ট্যাম্প্রে সিটি কাউন্সিলের সদস্য হন ২৭-এ। এরপর চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির দ্বিতীয় ডেপুটি চেয়ারপারসন হন। ২০১৫ সালে ৩০ বছর বয়সে প্রথমবার ফিনল্যান্ড পার্লামেন্টের সাংসদ নির্বাচিত হন ম্যারিন। ২০১৯ সালের ৬ জুন দায়িত্ব নেন দেশের যোগাযোগ ও পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে। ডাকবিভাগে ধর্মঘট নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে জোটসঙ্গী সেন্টার পার্টি সমর্থন তুলে নেওয়ায় সম্প্রতি সরকার ভাঙে ফিনল্যান্ডে। আস্থা ভোটে হেরে গত ৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অ্যান্টি রিনে। সেই শূন্য আসনেই ম্যারিনকে নির্বাচিত করেছেন সোশ্যাল ডেমোক্রেটরা। খুবই অল্প ভোটে জিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

নির্বাচিত হওয়ার রাতে সানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুনরায় আস্থা অর্জনে আমাদের একত্রে অনেক কাজ করতে হবে।’ বয়স নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার বয়স বা লিঙ্গ সম্পর্কে কখনো ভাবিনি। রাজনীতিতে যে কারণে এসেছি, সে বিষয়গুলোর কথা ভাবি, যার জন্য আমরা ভোটারদের আস্থা জিতেছি।’

ফিনল্যান্ডের সরকার যে পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত, সব কটি দলের নেতৃত্বেই এখন নারী। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বে ৩৪ বছর বয়সী সানা, বামপন্থী জোটের নেতৃত্বে ৩২ বছর বয়সী লি অ্যান্ডারসন, মধ্যপন্থী জোটের নেতৃত্বে ৩২ বছর বয়সী কাট্রি কুলমুনি, গ্রিন লিগের নেতৃত্বে ৩৪ বছর বয়সী মারিয়া ওহিসালো এবং সুইডিশ পিপলস পার্টি অব ফিনল্যান্ডের নেতৃত্বে আছেন ৫৫ বছর বয়সী অ্যানা-মাজা হেনরিকসন।

ম্যারিন অবশ্য এখনো বিয়ে করেননি। ফিনিশ ব্রডকাস্টার ওয়াইএলইর তথ্য অনুযায়ী সান্নে ম্যারিন সিঙ্গেল মায়ের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভ ইন করছেন পার্টনার মার্কাস রাইক্কোনেনের সঙ্গে। ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনা আছে দুজনের। ম্যারিনের শৈশব কেটেছে ভাড়াবাড়িতে। তাকে বড়ো করে তোলেন মা এবং মায়ের সঙ্গিনী। পারিবারিক পরিচয় দিতে শৈশবে বারবার হোঁচট খেয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন ম্যারিন নিজেই। গুটিয়ে রাখতেন নিজেকে। কিন্তু তাকে বরাবর আত্মবিশ্বাস আর সাহস জুগিয়েছেন তার জন্মদাত্রী। এখন দেশবাসীর ভরসাকে অটুট রাখার দায়িত্ব চৌত্রিশটি বসন্ত পেরোনো সানা ম্যারিনের কাঁধে। 

নর্ডিক দেশগুলোর তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন সানা ম্যারিন। ফিনল্যান্ড ছাড়াও বর্তমানে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে তরুণ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ওলেকসি হোনচারুকের বয়স ৩৫ বছর, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের বয়স ৩৯ বছর। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের বয়সও ৩৫।   g

  সূত্র :গার্ডিয়ান, এনডিটিভি