রাজাকারের তালিকায় ভুল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৭

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর প্রকাশিত স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার নাম আসায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে গত রবিবার প্রকাশিত ঐ তালিকা প্রত্যাহার করা হবে। আরো ‘দুই-একশ’ নামে ভুল হলে সংশোধন করা হবে। তবে ঐ ভুলের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায় অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তালিকা হুবহু তারা প্রকাশ করেছেন, কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

এদিকে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভুলভাবে কারো নাম রাজাকারের তালিকায় উঠে থাকলে তারা যদি আবেদন করেন তবে যাচাই-বাছাই করে মিথ্যা প্রমাণ হলে রাজাকারের তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহার করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এখনো এই তালিকা সংশোধন করা সম্ভব। কে করতে পারে সঠিকভাবে? ঐ সময়কার লোকেরা। তাই তাদের জীবিত অবস্থায় প্রকাশ পাওয়ায় আমি মনে করি, তারা আহত হলেও, কষ্ট পেলেও একটা সংশোধন হওয়ার সুযোগ হয়েছে। যদি এটা ৩০ বছর পর প্রকাশ হতো; তাহলে সংশোধন হওয়ার সুযোগ থাকতো না। কিছু ভুলের অভিযোগ এলেও রাজাকারের ঐ তালিকা বিতর্কিত হয়নি বলেও মনে করছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি বলেন, অভিযোগ যেহেতু এসেছে...বিতর্কিত হয়ে গেল—এটা বলা যাবে না। এটা দেখতে হবে সংখ্যাটা কতজন? আমার মনে হয়, আমি যতটুকু খবর পাচ্ছি; বরিশাল বিভাগ সম্পর্কেই অভিযোগগুলো পাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা স্বীকার করব না যে আমরা করেছি।               এই তালিকা আগেই করে রেখে গেছে। সেখানে কোনো ইল মোটিভ থাকতে পারে। উদ্দেশ্যমূলক...ভাই, যেভাবে আসছে, আমি তো বললাম, আমরা এটায় এডিট করি নাই। আমরা এখানে দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন, যেভাবে এসেছে; সেটা প্রকাশ করেছি।

একজন সাংবাদিক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এই ভুলের জন্য জাতির কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে কেউ কেউ দাবি করেছেন। ক্ষমা চাইবেন কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, দুঃখ প্রকাশ করার অর্থ যদি আপনি না বোঝেন, আমি কী এটা করেছি? এটা যদি আপনি চ্যালেঞ্জ করেন, তাহলে এসে দেখে যান রেকর্ড। আমরা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে যেটা বলছি। তালিকা আমরা তৈরি করিনি। জাতির দাবি ছিল, তাই প্রকাশ করেছি। আমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করি নাই। দুঃখ প্রকাশ করা আর ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে ‘কোনো পার্থক্য নাই’ মন্তব্য করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমি এই কাজ না করেও দায়দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।

তপন চক্রবর্তীর মেয়ে বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, আমার নাম আসলে আমি যেভাবে কষ্ট পেতাম, উনারাও সেভাবে কষ্ট পেয়েছেন। সে জন্য আমি ব্যথিত। আমিও কষ্ট পেয়েছি, সেটা তো আমি বলেছি। ভুলের ঘটনায় তদন্ত হবে কি না জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সংখ্যার ওপর...যদি ব্যাপকভাবে অভিযোগ আসে, তাহলে প্রত্যাহার করে নেব, আপনাদের দেখতে হবে যে, অভিযোগের মাত্রাটা কত।