শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস উদযাপন

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৭

রাজধানীর আজিমপুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন কবরস্থানে কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল এবং উত্তরা জম জম কনভেনশন সেন্টারে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, পূনর্মিলনী ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার উদযাপিত হয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস-২০১৯। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন যৌথভাবে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে দিবসটি পালন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হারুন-অর-রশিদ (বীর প্রতীক), প্রবীণ সাংবাদিক, ভাষা সৈনিক ও লেখক কামাল লোহানী, ভারতীয় দূতাবাস-ঢাকা এর শিক্ষা বিষয়ক প্রথম সচিব অক্ষয় জোশী ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত সহ শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় ও শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

১৭ তারিখ সকাল থেকেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আজিমপুর নতুন কবরস্থানে উপস্থিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও শহীদদের আত্মীয় স্বজন ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। এখানে কোরআনখানি, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় জম জম কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বে স্বাধীন বাংলার শহীদ রূপকারদের শ্রদ্ধেয় স্বজন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্নমিলনী, সংবর্ধনা, স্মৃতিচারণ ও স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় সৈনিকদের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারতীয় দূতাবাস প্রতিনিধিকে স্মৃতিস্মারক প্রদান করা হয়। অতঃপর মুক্তিযোদ্ধা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। বক্তব্য শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী- শাহীন সামাদ, বুলবুল মহলা নবিশ ও ডালিয়া সামাদ সহ শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ, কালচারাল ফোরাম ও শান্ত-মারিয়াম একাডেমীর শিক্ষার্থীবৃন্দ। 

শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবির শান্ত’ যুদ্ধ শেষে ফেরার পথে (১৭ ডিসেম্বর) নৌকা ডুবিতে তাঁর ১১জন সহযোদ্ধাকে হারান। মর্মান্তিক এই ঘটনা তরুণ শান্তকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। বিজয় নিয়ে ফিরলেও বন্ধুদের হারানোর শোকে তিনি  হতবিহবল হয়ে পড়েন। তাই সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ যাতে বৃথা না যায় সেজন্য প্রতিবছর এই দিনটিকে তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে নানা কর্মসূচি তথা আয়োজনে পালন করে আসছেন।

ইত্তেফাক/আরএ