রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতি-সংঘকে সাথে নিয়ে কাজ করার জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পদক্ষেপ নেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। যদিও প্রস্তাবের ওপর আলোচনা বর্জন করেছে মিয়ানমারের পাশে থাকা চীন ও রাশিয়া। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কূটনীতিক জানান, রাখাইনে নৃশংসতার মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে এবং মিয়ানমার সরকারের জবাবদিহি ও একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পদক্ষেপে যথেষ্ট অগ্রগতি না থাকলে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে নিয়মিতভাবে অবহিত করার বিষয়টিও খসড়ায় রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।
তবে খসড়া প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটির দিনক্ষণ এখনো নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। এ প্রস্তাব পাসে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ৯টি ভোট পেতে হবে। পাশাপাশি চীন, রাশিয়াসহ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদেরও ভোট পেতে হবে। স্থায়ী সদস্যদের কেউ ভেটো দিলে প্রস্তাবটি পাস হবে না। যুক্তরাজ্যের ওই খসড়াটি গত মাসের শেষদিকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের দেওয়া হয় এবং এ নিয়ে বেশ কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘে রাশিয়ার দূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া রয়টার্সকে বলেন, এ খসড়া প্রস্তাব নিরর্থক মনে হয়েছে। যদিও চীনা রাষ্ট্রদূত কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগেও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একাধিকবার প্রস্তাব উঠলেও চীন ও রাশিয়ার আপত্তিতে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেনি নিরাপত্তা পরিষদ।
রাখাইনে আরও প্রবেশাধিকারের দাবি জাতিসংঘের
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরও উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার দাবি করেছে জাতিসংঘ। দুই প্রতিনিধির পাঁচ দিনের রাখাইন সফরেরর অভিজ্ঞতায় দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে এমন আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের দুই সংস্থা। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের ৩৫টি স্থাপনা তৈরির অনুমোদন দেওয়ায় মিয়ানমার সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি এবং দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের পর গত ১৩ ডিসেম্বর ‘স্মল স্কেল কুইক ইমপ্যাক্ট প্রজেক্টস’ নামের এ প্রকল্পের অনুমোদন মেলে।
