জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশের স্বাধীনতাকে সুসংহত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনে আমরা জোট-মহাজোট গঠন করেছি। ৪৭ বছর আগে দেশ স্বাধীন হয়েছে, এখন দেশ গড়ার সময়। আমরা স্বাধীনতা চেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীনতার ফসল মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার আমরাজুড়ি ইউনিয়নে নিভৃত গ্রাম গন্ধর্ব মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
পিরোজপুর-২ আসনে (কাউখালী-ভাণ্ডারিয়া-ইন্দুরকানি) ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী হিসাবে এ সভায় সমাবেত বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের উদ্দেশে সংসদ সদস্য পদে তাকে ভোট দানের আহ্বান জানিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা মার্কায় প্রার্থী দিয়েছেন। এই আসনে জেপির নির্বাচনী প্রতীক বাইসাইকেলে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি দীর্ঘ ১০ বছর তার সাথে মন্ত্রিত্ব করেছি। নির্বাচনে আমরা তার সাথে এক হয়েছি যাতে দেশে উন্নয়ন, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং স্বাধীনতার চেতনা অটুট থাকে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক নির্যাতন-অত্যাচার মোকাবেলা করে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ২২ জন মানুষকে খুন করা হয়েছে। তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এ দেশের মানুষের জন্য। পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে, যাতে তার সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে। এ সরকার বছরে বাজেটে চার লাখ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। এ অর্থ দেশ পরিচালনায় ব্যবহূত হচ্ছে, সরকার মানুষের কল্যাণে যে সহায়তা দেয় তার উপর ভিত্তি করে মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় দিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বি হবে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ে প্রার্থী না হলে কেউ কেউ উচ্চ কণ্ঠে কথা বলছেন এবং ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তারা কিসের ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন তা বোধগম্য নয়। অনেক আসনে বিরোধী দলের প্রার্থীরা মাঠে আসেন না, তাদের খুঁজেও পাওয়া যায় না। মাঠে না এসে নির্বাচনী পরিবেশ নেই বলে উচ্চ কণ্ঠ হওয়ার কি কারণ তা বোধগম্য নয়।
জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ৩৩/৩৪ বছর ধরে দক্ষিণ অঞ্চলসহ সারা দেশে অনেক কাজ করার চেষ্টা করেছি। ১৮ বছর সরকারে ছিলাম, ছয় বার সংসদ সদস্য হয়েছি। মানুষের কল্যাণে পরিশ্রম করেছি, আমরা এ এলাকার উন্নয়নে যথাসাধ্য কাজ করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ধারা শুরু করেছি। আগামী প্রজন্ম আমাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবে এই আমাদের আশাবাদ। তিনি আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে সাইকেল মার্কায় ভোট দিলে শেখ হাসিনাকে ভোট দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
আমরাজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ মো. শামসুদ্দোহা চাঁদের সভাপতিত্বে এই নির্বাচনী জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের পিরোজপুর জেলা কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী খান পান্না, জাতীয় পার্টি-জেপির কাউখালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শাহআলম নসু, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীল কুন্ড, উপজেলা জেপির যুগ্ম সম্পাদক খান মোহাম্মদ বাচ্চু, সমাজ সেবক আব্দুল লতিফ খসরু, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও পিরোজপুর জেলা পরিষদ সদস্য শাহজাদী রেবেকা শাহীন চৈতী, কাউখালী ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশীদ মিল্টন, সয়না-রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জেপি নেতা আবু সাঈদ মিয়া মনু, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি জিয়াউল হাসান জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মৃদুল আহমেদ সুমন, গন্ধর্ব জানকিনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুব্রত রায়, সহকারী অধ্যাপক প্রদীপ হালদার, কাউখালী জেপি নেতা ও ইউপি সদস্য নেপাল চন্দ্র দে, ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন, ইউনিয়ন যুব সংহতির সভাপতি উজ্জল হালদার, সাবেক ইউপি সদস্য সমীরন সরকার প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে ছিলেন জেপির কেন্দ্রীয় নেতা ইউসুফ আলী আকন, উপজেলা জেপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুশ শহীদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ্ মো. আব্দুল কাইয়ুম, যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান ও জেপি নেতা দেলোয়ার হোসেন সিকদার, কাউখালীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন খান, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা মনজুরুল মাহফুজ পায়েল প্রমুখ।
রাতে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি চৌরাস্তায় এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন। জেপির ইউনিয়ন সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এখানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের জেলা নেতা ইসাহাক আলী খান পান্না, জেপির কাউখালী উপজেলার সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুশ শহীদ, জেপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, জেপির কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান ও জেপি নেতা দেলোয়ার হোসেন সিকদার, কাউখালী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন, শিয়ালকাঠি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গাজী সিদ্দিকুর রহমান, ছাত্র সমাজের উপজেলা আহ্বায়ক মো. কাইয়ুম শেখ, যুব সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান কবির প্রমুখ।
বিকালে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাউখালী ইউনিয়নের বাশুরীতে এক মহিলা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এখানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি সদস্য মাকসুদা বেগম। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন লিপিয়া বেগম, সীমা আক্তার, সংগ্রাম সমাদ্দার, মাসুদ রানা প্রমুখ।
