সম্প্রতি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে পাঁচজন নির্দেশককে নতুন নাটক নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। হূদি হকও তাদের একজন। তিনি একাধারে অভিনেতা, নির্দেশক ও নাট্যকার। মঞ্চ ও টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। মঞ্চে অভিনয় করেছেন নাগরিক নাট্যাঙ্গণের ‘প্রাগৈতিহাসিক’, ‘গহর বাদশা বানেছা পরী’, ‘ক্রীতদাসের হাসি’, ‘আকাসে ফুইটাছে ফুল’সহ অনেক নাটকে। দর্শকের কাছে তিনি নির্মাতা ও অভিনেতা হিসেবে বেশ সমাদৃত। গুণী এই অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশকের সঙ্গে কথা বলেছেন মাহবুব আলম
নির্দেশনার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে?
থিয়েটারে নির্দেশনার ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টির কথা বলব, সেটি হলো একজন মানুষের আগ্রহ বা ইচ্ছাটা থাকা বেশি জরুরি। শুধু থিয়েটারের কথা বলব না, শিল্পের যে জায়গাতেই হোক না কেন, সেটার বিষয়ে প্রথম যে বিষয়টা থাকতে হয়, সেটাই ইচ্ছা। অর্থাত্ তার মধ্যে শিল্প করার মানসিকতা আছে কি না, শিল্প তাকে তাড়িত করে কি না—তখন সে নিজে থেকেই শিল্পের প্রতি আগ্রহী হয়। তখন কাজটিও ভালো হয়।
নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের প্রণোদনা নতুনদের কতটা প্রেরণা দেবে বলে মনে করেন?
নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় নতুন শব্দটা ব্যবহার করছে নির্দেশকের কাজের জন্যই। তারাও বারবার বলছে যে তোমরা প্রত্যেকেই নিয়মিত কাজ করছ কিন্তু আমরা নতুন কাজে প্রণোদনা দিচ্ছি। এই ব্যাপারটা আসলে খুবই উত্সাহব্যঞ্জক। তারা যে পরিমাণ প্রণোদনা দিয়েছে সেটা দিয়েও আসলে কাজ সম্পন্ন হয় না, আরো বেশি প্রয়োজন। তারপরও আমরা এটাকে দারুণ উত্সাহ হিসেবে ধরছি, তার কারণ হলো প্রণোদনা প্রদান শুরু তো হলো। অর্থের পরিমাণ যা-ই হোক, শুরু হওয়াটাই জরুরি। এর পরে হয়তো পরিমাণ আরো বাড়বে। এরপর যারাই এই প্রণোদনা পাবে বা নতুনদের জন্য নিশ্চয়ই অনেক প্রেরণার হবে। থিয়েটারে তো আমরা এই জায়গাতে দারুণভাবে নিষ্পেষিত। আমি সবখানে বলি এবং বিশ্বাসও করি, স্বাধীনতার পর সবচেয়ে এগিয়ে যাওয়া ক্ষেত্রগুলোর অন্যতম থিয়েটার। কিন্তু আমরা টেকনিক্যাল সার্পোট বা ভালো টিম রেডি করা—এগুলো প্রপারলি করতে পারি না। কারণ হলো অর্থের সংকট। সেদিক থেকে প্রণোদনা আমাদের নিশ্চয়ই উত্সাহ দেবে।
নতুন নাট্যকর্মীদের অভিনেতা হিসেবে তৈরির জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি যত্নশীল হওয়া দরকার?
এ ক্ষেত্রে প্রথমেই একটি কথা বলে নিই, তা হলো আমরা সবাই ধরে নিই, সবচেয়ে সহজ কাজ হলো অভিনয় করা। আমি পেইন্টার হবো বললেই যেমন হওয়া যায় না, এডিটর হতে চাইলেই হওয়া যায় না, তেমনি অভিনেতা হতে চাইলেই হওয়া যায় না। অভিনেতা হওয়ার জন্য প্রচুর কাজ করার আছে। সে ক্ষেত্রে পড়া, ফিল্ম দেখা, গান শোনা অর্থাত্ কল্পনা শক্তি বাড়ানো অনেক প্রয়োজন একজন অভিনেতার জন্য। অবজারভেশন বাড়াতে হবে প্রচুর। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়ানো খুব প্রয়োজন। বাচিক দিক নিয়ে অনেক কাজ করা দরকার। সুতরাং থিয়েটার নিয়ে কাজ করা বা অভিনয় করা আসলেই একটু কঠিন।
পারিবারিকসূত্রে থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কোনো সুবিধা বা বৈরিতা আছে কি না?
সুবিধা ও বৈরিতা দুটোই আছে। তবে প্রথমেই বলব, এটা আসলে আশীর্বাদ। চার-পাঁচ বছর বয়সেই আমি থিয়েটারে ইনভলব হতে পেরেছি। থিয়েটারের মহড়া কক্ষই ছিল আমার খেলার মাঠ। আসলে এভাবেই কখন যে থিয়েটারে জড়িয়ে গেছি বলতে পারব না। সুতরাং থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন পরিবারে জন্মানো আমার কাছে আশীর্বাদই মনে হয়। তবে একটা সময় পরে নিজেকে আবিষ্কার করার একটা ব্যাপার থাকে। সেটি করতে না পারলে টিকে থাকা মুশকিল।
মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের মধ্যে কোন মাধ্যমে নির্দেশনার কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন, কেন?
আমার কাছে সবগুলো মাধ্যমই খুবই আগ্রহের জায়গা তৈরি করেছে এবং খুব ভালো লাগে নির্দেশনার কাজ করতে। তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের আগে সেটি নিয়ে আসলে কিছু বলতেও চাই না। টেলিভিশন ও মঞ্চে কাজ করা আমার কাছে অনেক আরামের। থিয়েটার আমার প্যাশন আর টেলিভিশন আমার পেশা।
