রে জা উ ল ক রি ম খো ক ন
চুলবুল পান্ডে আবার রুপালি পর্দা কাঁপাতে আসছে। তার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘দাবাং থ্রি’ মুক্তি পাবে আগামী সপ্তাহে। সালমান খান অভিনীত চুলবুল পান্ডে চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয়। চুলবুলকে এমনিতে খামখেয়ালি, অসত্, দুর্নীতিপরায়ণ ও কৌতুকপ্রিয় একজন পুলিশ অফিসার মনে হলেও আসলে সে দায়িত্বশীল, মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন, রোমান্টিক ও দুষ্টের দমনে ভীষণ সিরিয়াস একজন মানুষ। তার নানা কর্মকাণ্ড, সংলাপ, নাচগান, অঙ্গভঙ্গি দর্শক দারুণ উপভোগ করে। ‘দাবাং’ ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের দুটি সিনেমাই দর্শকনন্দিত হওয়ায় এবার তিন নম্বরটি আসছে আরো বৃহত্ আয়োজন নিয়ে। ঐ দুই সিনেমায় চুলবুলের প্রেমিকা ও স্ত্রী রাজ্জোকে দেখেছেন সবাই। তার সঙ্গে চুলবুলের সম্পর্কের রসায়ন দর্শকদের আপ্লুত করেছে বারবার। এবারও তাকে একই রূপে দেখা যাবে। চরিত্রটি এবারও রূপায়ণ করেছেন সোনাক্ষি সিনহা। ‘দাবাং’-এর মাধ্যমে বলিউডে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল তার। এখন পর্যন্ত ছবিটিতে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। এটাকে তার ক্যারিয়ারে বড়ো একটি প্রাপ্তি ও অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কয়েক বছর ধরে নায়িকা হিসেবে তেমন সুবিধা করতে পারছেন না সোনাক্ষি। যে কারণে হয়তো একক নায়িকা হিসেবে ‘দাবাং’-এর নির্মাতাগোষ্ঠী তার ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখতে পারেননি। ফলে তার সমান্তরালে আরেকটি নায়িকা চরিত্র সৃষ্টি করা হয়েছে। চুলবুলের প্রাক্তন প্রেমিকা রূপে খুশি চরিত্রটিকে আনা হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে। ‘দাবাং থ্রি’তে চুলবুলের তরুণ বয়সের প্রেমের গল্পই তুলে ধরা হয়েছে। আর প্রাক্তন প্রেমিকা চরিত্রে রূপদান করেছেন সাই মাঞ্জেরেকর। ইতিমধ্যে ‘দাবাং থ্রি’র ট্রেলর, টিজার ও নাচগানের দৃশ্যে সালমানের পাশে নতুন এই অভিনেত্রীকে দেখে সবাই বেশ কৌতূহলী হয়েছেন। মারাঠি ও বলিউডি সিনেমাজগতে অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে বেশ পরিচিত ও বিখ্যাত মহেশ মাঞ্জেরেকরের কন্যা সাই। প্রথম ছবিতেই সালমান খানের মতো একজন জনপ্রিয় সুপারস্টারের বিপরীতে নায়িকা হওয়ার সুযোগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি। বয়সের বিস্তর ব্যবধান থাকলেও সালমানের বিশেষ আন্তরিকতা ও সহযোগিতা সাইকে নার্ভাসনেস কাটিয়ে সাবলীল অভিনয়ে উদ্বুদ্ধ করেছে। মজার ব্যাপার হলো ছবিটিতে সাইয়ের বাবা মহেশ ও মা মেধা মাঞ্জেরেকরও অভিনয় করেছেন। একই ছবিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে কন্যার অভিনয় বলিউডে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ ছবির সঙ্গে সাইয়ের যুক্ত হওয়াটাও অনেকটা কাকতলীয়। এ ছবির প্রযোজক সালমানের প্রাথমিক পরিকল্পনায় দ্বিতীয় নায়িকা রাখার চিন্তাভাবনা থাকলেও সাই তাতে কোনোভাবেই ছিলেন না। মহেশ মাঞ্জেরেকর তৃতীয় ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা বলতে সালমান খানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে তার কন্যাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সাইকে দেখে হঠাত্ সালমান খানের মাথায় ‘দাবাং থ্রি’তে রাজ্জোর সমান্তরালে চুলবুলের সাবেক প্রেমিকা হিসেবে খুশি চরিত্রটি সৃষ্টির আইডিয়া আসে। আর তখনই এ চরিত্রে সাইকে কাস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। এভাবেই বলিউডের একটি আলোচিত বড়ো বাজেটের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ এসে যায় তার। ‘দাবাং থ্রি’ সাই মাঞ্জেরেকরকে কোথায় নিয়ে যাবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। কারণ এ ছবির মাধ্যমেই রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়েছিল সোনাক্ষি সিনহার। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেছিলেন তিনি। এবার সাই তার প্রথম ছবিতে কতটা চমক সৃষ্টি করেন, সেটাই হলো দেখার বিষয়।
