নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৪

নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম প্রকাশিত বৈশ্বিক লিঙ্গ বিভাজন সূচক (গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স) প্রতিবেদন ২০১৮-তে বাংলাদেশের অবস্থান এবছরও দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে রয়েছে। সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে নারীর ক্ষমতায়নে। এবার নারীর ক্ষমতায়ন উপসূচকে বিশ্বে শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে অবস্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে শ্রমশক্তিতে নারী-পুরুষ   ব্যবধান কিছুটা বেড়েছে।

সার্বিক সূচকে ১৪৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ৪৮তম অবস্থানে। এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার সবকটি দেশের অবস্থান একশ বা তার নিচে রয়েছে। মূলত শূন্য থেকে এক স্কোরের মাধ্যমে এ সূচকটি তৈরি করা হয়েছে। যে দেশ এক এর যত কাছাকাছি সে দেশের নারী-পুরুষের সমতায় তত এগিয়ে। এতে বাংলাদেশের এবার ১৪৯টি দেশের মধ্যে শূন্য দশমিক ৭২১ স্কোর নিয়ে ৪৮তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৭ সালে ১৪৪টি দেশের মধ্যে শূন্য দশমিক ৭১৯ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ ৪৭তম অবস্থানে ছিল। অর্থাত্ সূচকে উন্নতি হলেও নতুন ৫টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সার্বিকভাবে একধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ।

এবার সার্বিক সূচকে বাংলাদেশ ৪৮তম, শ্রীলঙ্কা ১০০তম, নেপাল ১০৫তম, ভারত ১০৮তম, মালদ্বীপ ১১৩তম, ভুটান ১২২ ও পাকিস্তান রয়েছে ১৪৮তম অবস্থানে। প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তুলনামূলক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে নারী-পুরুষ ব্যবধান খুবই কমে এসেছে। তবে উচ্চ শিক্ষায় ব্যবধান তুলনামূলক বেশি। সবচেয়ে বেশি ব্যবধান অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এবং সুযোগের উপসূচকে। এই উপসূচকে ১৪৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১৩৩তম অবস্থানে। প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে নারীর অংশ তুলনামূলক অনেক কম। স্বাস্থ্য ও টিকে থাকার কৌশলের উপসূচকেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশ রয়েছে ১১৭তম অবস্থানে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শীর্ষ পাঁচটি দেশ হলো আইসল্যান্ড, নিকারাগুয়া, রুয়ান্ডা ও বাংলাদেশ। সার্বিকভাবে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় শীর্ষে রয়েছে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো। সূচকে শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। ১৪৯টি দেশের মধ্যে তালিকায় তলানিতে রয়েছে ইয়েমেন। এরপর পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, চাদ, কঙ্গো, মালি, ইরান, সৌদি আরব।