স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৭৮৯ জনের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তা রাজাকার, আলবদর, আলশামসের তালিকা নয়। দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল এটি তাদের নামের তালিকা। গতকাল বুধবার বিকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তালিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয় এটি তাদের নামের তালিকা। অনেকে শত্রুতাবশতও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। সেই নামগুলোও এ তালিকায় আছে। তারা দালাল আইনের আসামি। এর মধ্যে ৯৯৬ জনকে বিভিন্ন অভিযোগ থেকে খালাসও দেওয়া হয়েছে। আমরা খালাসপ্রাপ্তদের নামের তালিকাটিও নোট হিসেবে যুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পাঠিয়েছিলাম। এখন দেখছি অনেক জায়গায় এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য, ভুলত্রুটি ধরা পড়ছে।
মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকার হিসেবে তালিকায় ঢুকে গেল, আপনি মর্মাহত হয়েছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি অবশ্যই মানসিকভাবে আহত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি নিজেও এ ব্যাপারে মর্মাহত। তালিকা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা কোথায় খরচ হয়েছে—প্রশ্ন করা হলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। কারণ তিনি একজন সিনিয়র মন্ত্রী।
এ ধরনের বিতর্কিত তালিকা তৈরি ‘সাবোট্যাজ’ কিনা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। আমার মন্ত্রণালয় যে কাজ করেছে, তাতে ভুল হতে পারে। তবে এ ধরনের একটি বড়ো কাজে সেই ভুল কতখানি সহনীয় তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হবে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমার মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি করা হবে। আমার মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত থাকলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
