মানিকগঞ্জে আশ্রয়ণের ঘর পাচ্ছে বিত্তশালীরা

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:২১

মানিকগঞ্জে সরকারের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা সদর, হরিরামপুর ও ঘিওর উপজেলায় জমি আছে ঘর নাই, এমন অসহায় দুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তালিকা করে এ সকল পরিবারকে ঘর প্রদান করার কথা থাকলেও সরকারি এ ঘর দেওয়া হয়েছে বিত্তশালী ও রাজনৈতিক বিবেচনায়। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ঘর বণ্টন করায় প্রকৃত হতদরিদ্ররা এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরকারি ঘর দেওয়া বাবদ টাকা নেওয়া হয়েছে। যারা টাকা দিতে পেরেছে তাদের নামের তালিকা নিয়েছে জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া আগামী প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনেকের কাছ থেকে অগ্রিম ১০ হাজার করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় আশ্রয়হীন দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ঘর প্রদান প্রকল্পে অর্থের বিনিময়ে ঘর দেওয়া হয়েছে। এ ঘর বাবদ নেওয়া টাকা পকেটে ভরেছে স্ব স্ব স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বাররা।

সরেজমিনে জানা গেছে, সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের পশ্চিম হাসলী গ্রামের আর্থিকভাবে সচ্ছল আওলাদ হোসেন ভালো ঘর থাকার পরও পেয়েছেন একটি ঘর। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। ফসলি জমি রয়েছে ৬০ শতাংশের বেশি। এ ব্যাপারে পুটাইল ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান তুষার জানান, এ প্রকল্পে ২৫ জনের নামের তালিকা আমি উপর মহলে পাঠিয়েছিলাম। যাচাই বাছাই করে কত জনকে রাখা হয়েছে সে হিসেব আমার কাছে নেই। যারা তালিকা চূড়ান্ত করেছে তারাই অনিয়ম করেছে।

পুটাইল ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল বারেক বাচ্চু মোবাইল ফোনে জানান, আওলাদ কীভাবে ঘর পেল আমি জানি না। এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা তুষার ভাই বলতে পারবেন। এক পর্যায়ে তিনি ফোনটি কেটে দেন। ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ইউপি সদস্য রাজিব তিনি তার ফুপা মাইনুদ্দিনকে একটি ঘর, তার স্ত্রীর ভাই কাজী শামিম ও তার ভায়েরা ফটিককে একটি করে ঘর দিয়েছেন। এছাড়া আগামীতে সরকার ঘর দেবে এ আশা দেখিয়ে তার ওয়ার্ডেরই ৫/৬ জন হতদরিদ্র ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা নিয়েছেন। ঘিওরের নালী ইউনিয়নের মাইনুদ্দিনের ছেলে নূরআলম বলেন, ঘর বাবদ রাজিব মেম্বারকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ঘর দেওয়ার কথা বলে রাজিব মেম্বার ৫/৬ জন দুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার করে টাকা নিয়েছে। ইউপি সদস্য রাজিব বলেন, আমার নামে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক না।

এছাড়া হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নে ২০টি ঘর দেওয়া হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগের সেক্রেটারির ভাই ছালাউদ্দিনকে একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ছালাউদ্দিনের দুই ছেলেই ব্যবসায়ী। তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা। আর্থিকভাবে তারা সচ্ছল, তবুও সরকারি ঘর তাদের দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পংকজ ঘোষ ইত্তেফাককে বলেন, এ পর্যন্ত যে কয়টি অভিযোগ পেয়েছি তা নিষ্পত্তি করেছি। যদি আরো কোন অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।