জামায়াতের নেতাদের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য চার ব্যক্তির করা আবেদনটি তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে ইসির নেওয়া সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশন সচিব এবং জামায়াতের ২৫ প্রার্থীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
আদেশের পর রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন যেহেতু অবৈধ সেহেতু প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অন্য দলের প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ওই দলের নেতারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনও তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে। আইনের প্রতিষ্ঠিত রীতি যা প্রত্যক্ষভাবে করা যায় না, তা পরোক্ষভাবেও করা যায় না। ফলে এদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। এসব যুক্তিতে রিট আবেদন করা হলে আদালত উপরোক্ত আদেশ দেয়।
বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী ও সমাজ কল্যাণ সচিব মো. আলী হোসেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির ও সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মো. এমদাদুল হক জামায়াত নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে গত সোমবার হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন। রিটে বলা হয়, ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনজন জামায়াত নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কিন্তু ২০১৩ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি (১)(বি)(২) এবং ৯০সি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও সংবিধান পরিপন্থি বলে ঘোষণা করে। ফলে ওই রায় অনুযায়ী তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত বলেন, জামায়াত নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি পারবে না সেটা দেখার দায়িত্ব ইসির। আপনারা (রিটকারী) নির্বাচন কমিশনে আবেদন দিন। আমরা নিষ্পত্তির করতে বলে দেব। এরপরই ওইদিনই সন্ধ্যায় কমিশনে গিয়ে জামায়াতের নেতাদের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য একটি আবেদন দাখিল করেন রিটকারীরা। গতকাল রিট আবেদনটি শুনানি ও আদেশের জন্য আসে। এরপরই কমিশনে দাখিল করা আবেদনটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।
