জাহিদ হায়দার
ছাদে বসেছিলাম।
বাতাস বলছে, শীত আসতে দেরি নেই।
চলছে হেমন্ত আর শীতের সন্ধিক্ষণবেলা।
দেখতে পাচ্ছি তিনটি মেয়ে শিশু ইচিংবিচিং খেলায়
নিজেদের পৃথিবীতে সহজ সুন্দর।
তুমি কি কখনো লাফ দিয়ে উড়ে
সাঁকোর বাধা পার হবার এই খেলাটি খেলেছ?
দুজন মুখোমুখি বসে দুজনের দুটি পায়ের পাতা
এগিয়ে দিয়ে আলিঙ্গন করালো। হাঁটু ভেঙে
ঈষত্ ওপরের দিকে তুলতেই হলো দুটি ত্রিভুজ।
মিলিত পায়ের ঊর্দ্ধমুখি বুড়ো আঙুলের ওপর হাতের
কুড়িটি আঙুল রাখতেই দেখলাম উড়ন্ত প্রজাপতির
স্থির শিল্পরূপ। অপূর্ব শব্দটি বিকালেও সূর্যোদয়।
যেন পৃথিবীর প্রথম সাঁকো তৈরি হলো।
মামুলি সাফল্য কেবল শিশুদের মুখেই উজ্জ্বল।
যে সখি লাফ দিয়ে উচ্চতা পার হবে,
তার চোখে সবুর সইছে না।
তুমি জান, খেলার সাথীরা মাঝে মাঝে ষড়যন্ত্র করে।
লাফ দিয়ে পার হবার মুহূর্তে তর্জনী একটু ওপরে
তুলে দিতে পারে। পা যদি প্রজাপতির
ডানায় লাগে, হেরে যাবে উড়ন্ত মানুষ।
বুঝিনি, শিশুরা ছিল মাদ্রাসার ছাত্রী।
একটু দূর থেকে হুজুর ধমক দিলেন।
প্রজাপতির ডানা করুণ হয়ে ঝরে গেল।
বিষণ্নতার কালো ছায়া ঢেকে দিল শিশুদের মুখ।
খেলাটার বিধিমালা কেন্দ্রে রেখে
একটি রাজনৈতিক গল্প লেখা যেতে পারে।
খেলাটা কি আন্তর্জাতিক? ইচিংবিচিং
কী বোঝায় আমাদের? সত্বর জানাবে।
