নাটোরে বিভিন্ন নদীর পাড়ে উচ্ছেদ শুরু ২৩ ডিসেম্বর

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৬

দখল ছাড়তে নোটিশ

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে নারোদ নদসহ বড়াল ও নন্দকুজা নদীর পাড়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে। এ ব্যাপারে অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীসমূহের জরিপ কাজ সম্পন্ন করে সীমানা চিহ্নিতকরণ ও অবৈধ স্থাপনা স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এই কাজ সম্পন্ন করছে।

জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার নারদ নদের এলাকা, বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াল নদীর এলাকা এবং গুরুদাসপুর উপজেলার নন্দকুজা নদীর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায় অভিযান চলবে।

নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘নদীর সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম সফল করতে সকল পেশাজীবী একজোট হয়েছে। ’ ‘দখল আর দূষণের হাত থেকে নদীকে বাঁচাতেই হবে’ বলে মত প্রকাশ করেছেন নদী বাঁচাও আন্দোলন নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি ফারাজী আহম্মদ রফিক।

এদিকে, কানাইখালী জেলেপাড়া এলাকায় তোফায়েল মিস্ত্রিকে একতলা বাড়ি ভাঙতে দেখা গেছে। কান্দিভিটা এলাকার জ্যোস্না বেগম নামে এক বিধবা তার চালাঘর সরিয়ে নেওয়ার কাজ করতে করতে বলেন, সহায় সম্বলহীন হয়ে নদীতে বাড়ি বানিয়ে বাস করছিলাম। এখন আবার উদ্বাস্তু হয়ে যাচ্ছি। তিনি সরকারের কাছে পুনর্বাসনের দাবি করেন।

নাটোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আহসান বলেন, জরিপের মাধ্যমে নদীর সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের নিয়মিত নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, নাটোর জেলাসহ এই অঞ্চলের নদীকে সচল করতে বড়াল বেসিনভিত্তিক ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, নদীর সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় এই কাজের সফলতায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি হতদরিদ্রদের পুনর্বাসন, নদী খনন এবং নদীর পাড়ে বনায়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের মতো নান্দনিক কাজও করা হবে।