ইইউ-ব্রিটেন সম্পর্ক পুরো বিচ্ছেদ কবে?

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৫

শিফারুল শেখ

 

অবশেষে আসছে বছরের ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যেতে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে শুক্রবার এজন্য আনা বিলটি বড়ো ভোটের ব্যবধানে পাশ করেন এমপিরা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রত্যাহার বিলটির পক্ষে পার্লামেন্টে ভোট দেন ৩৫৮ জন। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩৪টি। তবে পুরো বিচ্ছেদ শেষ হতে হবে আগামী বছরের শেষ নাগাদ। এটাই দুই পক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের মধ্যে ইইউর সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করা ব্রিটেনের বড়ো চ্যালেঞ্জ। সেটা সম্ভব হবে না বলেই ধারণা।

পুরো বিচ্ছেদে শঙ্কা কেন : ইইউ একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট। ৩১ জানুয়ারি ইইউ থেকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক বিচ্ছেদ ঘটবে, অর্থনৈতিক নয়। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর জন্য সময় পাবে ব্রিটেন। নতুন পাশ হওয়া ব্রেক্সিট বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, ইইউর সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেটি কোনোভাবেই ২০২০ সালের বেশি বাড়ানো যাবে না বলে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আশা করছেন, ইইউর সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি ২০২০ সালের মধ্যেই করা সম্ভব। তবে সমালোচকেরা এই সময়সীমাকে অবাস্তব বলে বর্ণনা করেছেন। কনজারভেটিভ পার্টি এ মাসের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সহজেই বিলটি পাশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ব্রেক্সিট বিলটি এখন হাউজ অব লর্ডসে পাশ করতে হবে। এরপর সেটি অনুমোদনের জন্য রানির কাছে যাবে। সেখান থকে পাশ হলে বিলটি আইনে পরিণত হবে। সরকার বলছে, এই বিলকে ৩১ জানুয়ারির আগেই তারা আইনে পরিণত করবেন। এরপর ২৯ জানুয়ারি ইইউ পার্লামেন্টেও ব্রেক্সিট বিলের পক্ষে অনুমোদন দেওয়া হবে। ৩১ জানুয়ারি রাত ১১টার পর ব্রিটেনের ইইউ থেকে বের হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া শুরু হবে।

১১ মাসে ইইউ-ব্রিটেন সম্পর্ক : ৩১ জানুয়ারি রাজনৈতিক বিচ্ছেদ ঘটলেও অর্থনৈতিক বিচ্ছেদ হচ্ছে না। এরপর ১১ মাসে ইইউ ও ব্রিটেনের নাগরিকেরা স্বাধীনভাবে বর্তমানের মতোই চলাচল করতে পারবেন। ব্রিটেন ইইউর একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসের (ইসিজে) ক্ষমতা এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও বহাল থাকবে। ব্রিটেনের আদালত মামলা সেখানে দিতে পারবে। ভবিষ্যতে ইসিজের ক্ষমতা নিয়ে সমঝোতা করতে হবে দুই পক্ষকে। তবে ৩১ জানুয়ারির পর ব্রিটেন ইইউ পার্লামেন্টে আর প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না।

১ ফেব্রুয়ারি সমঝোতা শুরু? : না, এমনটা হবে না। ইইউ ও ব্রিটেন উভয়কে তাদের সমঝোতার লক্ষ্যগুলো প্রথমে প্রকাশ করতে হবে। ব্রেক্সিট বিলে প্রধানমন্ত্রী বরিসকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। আর ইইউ ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের সমঝোতার উদ্দেশ্যগুলোতে সম্মতি দেবে। এরপর সেগুলো ইউরোপিয়ান কমিশন ও ইইউর প্রধান সমঝোতাকারী মাইকেল বার্নিয়েরের কাছে পেশ করা হবে। আগামী ১ জুলাইয়ের আগে অন্তর্বর্তী সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারবে ব্রিটেন। এরকম একটি অনুচ্ছেদ ব্রেক্সিট বিলে রাখা হয়েছে। ইইউর আইনজীবীরা বলছেন, ১ জুলাইয়ের পর আর সময় বাড়ানো হবে না। দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বরিস সময় বাড়াতে চান না। তিনি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই চুক্তি করা সম্ভব বলে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমঝোতার ক্ষেত্রে অনেক প্রশ্ন আসবে। এগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে না। তাই আসলে পুরো ব্রেক্সিট কবে কার্যকর হবে তা বলা কঠিন।