শীতবস্ত্র প্রদানের মহতী উদ্যোগ ছড়াইয়া পড়ুক সবখানে

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯

গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে সারাদেশে জনজীবনে ছন্দপতন দেখা গিয়াছে। হঠাত্ শীতের আগমনে অপ্রস্তুত হইয়া পড়িয়াছে রাজধানীবাসী। যদিও গ্রামে-গঞ্জে শীতের আগমন ঘটিয়াছে নভেম্বরের শুরু হইতেই। এবার মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ঢাকায় তাপমাত্রা ১৬ হইতে ১৩ ডিগ্রিতে নামিয়া আসে। চুয়াডাঙ্গায় বত্সরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে যানবাহন, ফেরি, নৌ ও বিমান চলাচল বিঘ্নিত হইতেছে। আবহাওয়াবিদেরা বলিতেছেন, এবার শীতকালে তাপমাত্রা আরো কমিয়া যাইতে পারে এবং শীতও কিছুটা লম্বা হইতে পারে অন্যান্য বত্সরের তুলনায়। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়, দেশে হাড় কাঁপানো শীত পড়িলেই পত্রপত্রিকায় অনেকের মৃত্যুর সংবাদ আসে। গত বত্সরের শুরুতে এক সপ্তাহেই মারা যান ২৯ জন। এ বত্সরও মৃত্যুর সংবাদ যে আসিতেছে না, তাহা নহে। যেমন গত শনিবার মৌলভীবাজারে শীতজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করিয়াছেন চার জন । তবে গত বত্সরের তুলনায় পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে। এই সময়ে অনেক বয়স্ক মানুষ কিংবা শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হইয়া মারা যায়। শীতের অন্যান্য অসুখ-বিসুখেও অনেকে আক্রান্ত হইয়া থাকে। বিশেষ করিয়া, যাহারা ফুটপাতে থাকে কিংবা উত্তরবঙ্গের যেসব ছিন্নমূল মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পায়, তাহাদের অবস্থা বেগতিক হইতে দেখা যায়। শীতকালে ঝুঁকিতে থাকা এই সকল মানুষের প্রতি আমাদের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির কারণে সচ্ছল মানুষ শীতের শুরুতেই গরম কাপড় কিনিয়া লইতেছে। রাজধানী তো বটে, খোদ জেলা-উপজেলা শহরগুলির ফুটপাতেও স্বল্প মূল্যে শীতের পোশাক পাওয়া যাইতেছে। এমনকি ১০-২০ টাকায়ও মিলিতেছে শীতের পুরাতন কাপড়। গার্মেন্ট বা তৈরি পোশাকশিল্প বিকশিত হইবার ইহা একটি বড়ো সুবিধা। এখানে সামান্য ত্রুটিযুক্ত ও অরপ্তানিযোগ্য বিভিন্ন পোশাক একেবারেই সহজলভ্য। অন্যদিকে আজকাল সারাদেশে শীতবস্ত্র প্রদানের মতো মহতী সামাজিক উদ্যোগ চোখে পড়ে। রাজনৈতিক বা স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠনের পাশাপাশি গভীর রাত্রে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়া আসিয়াও অনেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। ইদানীং রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর-নগরে গড়িয়া উঠিয়াছে ‘মানবতার দেওয়াল’। সেখানকার হ্যাঙ্গারে হূদয়বান মানুষ তাহাদের ব্যবহূত পুরাতন জামাকাপড় জমা দিয়া থাকেন এবং যে কেহ তাহা বিনা পয়সায় ও বিনা দ্বিধায় লইয়া যাইতে পারেন। এই সকল সামাজিক ও মহত্ উদ্যোগসমূহের কারণেও এখন শীতে মানুষ মারা যাইবার ঘটনা কম ঘটিতেছে।

এই পর্যন্ত যে দৃশ্যপটের বিবরণ দেওয়া হইল, তাহা আসলে শহরাঞ্চলের বর্তমান একটি চিত্র ও মুদ্রার একটি পিঠ মাত্র। তবে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জের অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, এই বত্সর পহেলা নভেম্বর হইতে ৫০ দিনে সারাদেশে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হইয়াছে ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪৬৩ জন। তন্মধ্যে শ্বাসতন্ত্র ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হইয়াছে ৩৮ হাজার ২৩৯ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হইয়াছে ৯৭ হাজার ৪৩৬ জন। ইহার মধ্যে মারা গিয়াছে ৪৯ জন। এই জন্য এখন শীতবস্ত্র প্রদান ও মানবতার দেওয়ালের মতো শুভ উদ্যোগ যথাসম্ভব প্রত্যন্ত ও তুলনামূলক দরিদ্র এলাকায় ছড়াইয়া দিতে হইবে। শীতকালে স্বাস্থ্যসচেতনতায় নানাভাবে প্রচারণা চালানো জরুরি। এই সময়ে গরম কাপড়, খাবার ও পানি ব্যবহার করা দরকার। তবে গ্যাসের চুলা ও গরম পানির ব্যবহার, চুলার উপর ভিজা জামা-কাপড় শুকানো, এমনকি খড়কুটা দিয়া আগুন পোহাইবার সময় দরকার বাড়তি সতর্কতা।