প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তৃণমূল হলো আওয়ামী লীগের প্রাণ। তৃণমূল সবসময়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত আরো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করে তোলা হচ্ছে।’ গতকাল রবিবার রাতে গণভবনে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কাউন্সিলরদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। অনানুষ্ঠানিক এ বৈঠকে তৃণমূলের নেতারা ক্ষোভ ও দুঃখের কথা দলীয় সভানেত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা যদি আরো সক্রিয় হন, তাহলে দারিদ্র্য বিমোচনের কাজ আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি। নির্বাচন করতে চান, ভোট করতে চান, নেতা হতে চান- এজন্য সবার আগে মানুষের কাছে যান। মানুষের কি সমস্যা হচ্ছে দেখেন। মানুষের জন্য কি করতে পারেন, করেন। তাহলে মানুষই আপনাদের সব সুযোগ করে দেবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ যতটুকু উন্নয়ন করেছে তার সবটুকুই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই করেছে। স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন জাতির পিতা, তিনিই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলেছেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা দেশ গড়ার কাজ করে যাচ্ছি। এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছি।’ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই যদি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করি, যার যার এলাকায় প্রত্যেকে কাজ করি, যারা দরিদ্র-ভূমিহীন তাদের খুঁজে বের করে ঘরবাড়ি করে দিতে পারি। তাহলেই দেখবেন দেশে দরিদ্র বলে কিছু থাকবে না।’
‘চাচাদের দরজায় দরজায় ঘুরেছি ’
তৃণমূল নেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর শুরু হয় খোলামেলা আলাপ। টানা নবমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে দলটির তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের সামনে মন খুলে কথা বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তৃণমূল নেতাদের জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ফেলে আসা দিনের স্মৃতিও রোমন্থন করেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা পচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘটনার প্রেক্ষাপটে বলেন, ‘তখনও এত নেতা ছিল কিন্তু আমরা জাতির পিতাকে রক্ষা করতে পারিনি। ওনার লাশ পড়ে থাকল, কেউ এগিয়ে আসল না। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে দলকে সংগঠিত করার লক্ষে এই আমি দেশে ফিরে সব চাচাদের (তংকালীন সিনিয়র নেতা) দরজায় দরজায় ঘুরেছি। সবার কাছে গেছি। কিন্তু কার কাছে কী পেয়েছি, সব কথা আমি জানি। আমি সব কথা বলতে চাই না।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশ বেঁচে দিবে, আজান হবে না, মসজিদে উলু ধ্বনি হবে। এ রকম নানা অপপ্রচার কিন্তু করা হতো। সেগুলো আমাদের মোকাবেলা করতে হয়েছে, জবাব দিতে হয়েছে।’
