কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না বান্দরবান সরকারি হাসপাতালে!

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৫৮

কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না ১৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া বান্দরবান সরকারি হাসপাতালে। চিকিত্সা সেবা নিতে আসা রোগীরা নিয়মিত হয়রানি এবং দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন মোহাম্মদ রাহাত অভিযোগ করেন, এক আত্মীয়কে বান্দরবান সদর সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে নিয়ে আসি। জরুরি বিভাগে কর্মরত নার্সের আচরণে মনে হলো রোগীকে সরকারি হাসপাতালে এনে অন্যায় করেছি। দায়িত্বরত নার্স রোগীকে ভর্তি করিয়ে উধাও। কিছুক্ষণ পর আরেকজন নার্স এসে রোগীকে ওয়ার্ডে নিয়ে স্যালাইন দেন। দায়িত্বরত চিকিত্সককে ফোন দেওয়ার অনেকক্ষণ পর এসে রোগী দেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিলেন। বিকালে চিকিত্সক চেম্বারে ডেকে জানালেন রিপোর্ট দেখেছি, সবকিছু নরমাল, কোনো সমস্যা নেই। তারপর চিকিত্সক একটি সাদা কাগজে ‘আমি রোগীর অভিভাবক, আমার আর্থিক সংকটের কারণে চিকিত্সা করাতে পারছি না। তাই রোগীকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে যেতে চাই। এতে রোগীর কোনো প্রকার দুর্ঘটনা হলে ডাক্তার বা নার্স দায়ী থাকবে না’—কথাগুলো লিখে আমায় স্বাক্ষর করতে বললেন। এই হলো বান্দরবান সরকারি হাসপাতালের বর্তমানে চিকিত্সাব্যবস্থা।

পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ রেজা বলেন, সম্প্রতি এক রোগী নিয়ে ইমার্জেন্সিতে গিয়ে একজন নার্সের দাম্ভিকতা দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছি। এদিকে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অংসু প্রু বলেন, চিকিত্সক, জনবল এবং লজিস্টিক সংকটে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু সারাদেশে শূন্য পদগুলোতে চিকিত্সক এবং জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিয়োগ হলে সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে। দায় এড়াতে রোগীদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় চিকিত্সকরা অনেক সময় ঝুঁকি নিতে চায় না। তবে চিকিত্সকদের নির্দেশ দিয়েছি অযথা হয়রানিমূলক কোনো রোগীকে যাতে রেফার করা না হয়। এছাড়াও আর্থিক সংকটে যারা বাইরে চিকিত্সা করাতে পারছে না, তাদের লিখিত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হচ্ছে।