তরুণদের মেধা বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে ইত্তেফাক

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৫

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যে কটি পত্রিকা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দৈনিক ইত্তেফাক। যে পত্রিকাটি গণমানুষের কথা বলে আসছে, সত্য-ন্যায় ও গণতন্ত্রের কথা বলে আসছে, মানুষের অধিকারের কথা বলে আসছে সেটি হচ্ছে ইত্তেফাক। শুধু তাই নয়, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে এই ইত্তেফাক। বিশেষ করে পত্রিকাটি তরুণদের মেধা বিকাশে রাখছে বিরাট ভূমিকা।

 দৈনিক ইত্তেফাক তরুণদের মনে জায়গা করে নিয়েছে তাদের মূল্যায়ন করে। কেননা দেশের অন্য জাতীয় পত্রিকাগুলোর তুলনায় তরুণদের সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করে ইত্তেফাক। তরুণদের চিন্তা-ভাবনার জগেক সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তাদের মেধা বিকাশের জন্য ‘তরুণ প্রজন্মের ভাবনা’ নামক একটি পাতা সংযোজন করেছে পত্রিকাটি। যেখানে সপ্তাহে পাঁচদিন বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখা প্রকাশ করছে নিয়মিত। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের লেখার মূল্যায়ন করে তাদেরকে প্রতি মাসে পুরস্কারও দিয়ে আসছে দৈনিক ইত্তেফাক। এছাড়াও তরুণদের দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠিপত্র, গল্প, কবিতা প্রকাশ করে আসছে পত্রিকাটি। যার জন্য শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত শিখছে এবং লেখার আগ্রহ পাচ্ছে। তরুণদের মাঝে লেখালেখির একটা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে যার কৃতিত্ব অবশ্যই ইত্তেফাক পেতে পারে। কেননা যেখানে অন্যান্য পত্রিকা পুরস্কার তো নয় বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণদের লেখাকেই অগ্রাহ্য করে আসছে। একজন তরুণ লেখক হিসেবে আমি মনে করি তরুণদের মেধা বিকাশে ইত্তেফাকের এমন ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।

আজ দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শহিদ সোহরাওয়ার্দীর উত্সাহ, অনুপ্রেরণা সহযোগিতায় ১৯৫৩ সালের আজকের এই দিনে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশ করেন। সূচনালগ্ন থেকেই দৈনিক ইত্তেফাক গণমানুষের মুখপত্র হয়ে কাজ করছে এবং মহান স্বাধীনতাযুদ্ধেও তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া এবং ইত্তেফাকের ভূমিকা ছিল অনন্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে আজও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে দৈনিক ইত্তেফাক। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের কারণে পাঠকপ্রিয়তারও শীর্ষে পত্রিকাটি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়-১৯৬২র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ইত্তেফাক রেখেছে বিরাট ভূমিকা। যার জন্য অসংখ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছে পত্রিকাটি এবং কারাবরণ করতে হয়েছে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে। সত্য প্রচারের ক্ষেত্রে আপোষহীন এই পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়েছে কয়েকবার তবুও মানুষের মুক্তির প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে, মানুষের অধিকারের প্রশ্নে নিজ অস্তিত্ব বিলীনের ঝুঁকি অগ্রাহ্য করে নিরবচ্ছিন্নভাবে সমর্থন জুগিয়েছে সত্যের পক্ষে এবং আজও তা করে যাচ্ছে পত্রিকাটি।

কঠিন সময়কে জয় করে, কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অসংখ্য চড়াই-উতরাই শেষে ৬৭তম বছরে পা রাখা আজকের এই দিনে ইত্তেফাক পরিবারের প্রতি রইল অফুরন্ত ভালোবাসা এবং শুভকামনা। বাংলাদেশের গণমানুষের এবং তরুণদের ভালোবাসায় সিক্ত দৈনিক ইত্তেফাক এগিয়ে যাক আপন গতিতে—এমনটি কামনা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়