মজার স্কুল এ ক টি আ লো র ম শা ল

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:২৮

  আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের অতিদরিদ্র এবং মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম উপাদান যে শিক্ষা, সেই শিক্ষা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়েই মূলত হাবিপ্রবি মজার স্কুলের কার্যক্রম। যেখানে ক্লাশ পরীক্ষা শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা পড়ন্ত বিকালে আড্ডা, বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটি-ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত, সেখানে ঠিক এসবের বিপরীতে কিছু স্বপ্নবাজ তরুণ তাদের অবসর সময় বিনিয়োগ করছে এসব হতদরিদ্র শিক্ষার্থীর মাঝে। শিক্ষার আলো বিতরণের মধ্য দিয়ে কৃষি অনুষদের ১১ জন তরুণের উদ্যোগে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘হাবিপ্রবি মজার স্কুল’ নামের এই স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটি।

সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবীমূলক এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো বিতরণ করে যাচ্ছে। মজার স্কুল পরিবারের এসব কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হলো প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামূলক গল্পগুচ্ছের আয়োজন করা, প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষামূলক অ্যানিমেটেড কার্টুন দেখানো, শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ এবং মেধা মূল্যায়নের লক্ষ্যে সাপ্তাহিক এবং মাসিক মানোন্নয়ন পরীক্ষার আয়োজন করাসহ আরো নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো বিতরণ করে যাচ্ছে।

শুধু তাই নয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একরকম আড়ম্বরপূর্ণভাবেই মজার স্কুলের শিক্ষকদের দেখা যাবে গ্রাম পরিদর্শন করতে। গ্রাম পরিদর্শনের মূল লক্ষ্যই থাকে মজার স্কুলে যেসব শিক্ষার্থী আসছে তাদের বাবা-মার পারিবারিক অবস্থা তদারকি এবং এ সব শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের বাবা-মা শিক্ষা সম্পর্কে ঠিক কতটুকু সচেতন তার একটি সম্যক ধারণা নেওয়া। ‘মজার স্কুল’ কেন রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে মজার স্কুলের বর্তমান পরিচালক রাগীবুল হাসান সিফাত বলেন, আসলে আমাদের স্কুলটি অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একটু আলাদা। অন্য প্রতিষ্ঠানে যেমন এক ধরনের মানসিক চাপ দিয়ে পড়ানো হয়, আমরা ঠিক তার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের মজার ছলে এবং বিনোদনমূলক উপকরণের মাধ্যমে তাদের পাঠ্যবিষয় বুঝিয়ে দেই। এজন্যই আমাদের প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে ‘হাবিপ্রবি মজার স্কুল’। হয়তো বাংলাদেশ একদিন সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে এসব তরুণের জন্যই।