অনেক গুণে গুণান্বিত একজন

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৪

  মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক

 

একজন বহুমাত্রিক সর্বজয়া নারীর গল্প শুনতে হবে আজ। যিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন এক দুরন্ত উচ্চতায়। নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি কাজের পেছনে। জীবনে ভালোবেসেছেন কাজকে আর কাজকেই করে নিয়েছেন সবচেয়ে আপন। বলছিলাম চিত্রশিল্পী নাজিয়া আন্দালিব প্রিমার কথা। তিনি একাধারে একজন চিত্রশিল্পী, উপস্থাপিকা, সংগীত শিল্পী, নৃত্যশিল্পী, অভিনেত্রী, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের ডিরেক্টর, উইমেন ইন লিডারশিপ ও বাংলাদেশ ক্রিয়েটিভ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা।

তার দেশের বাড়ি গাজীপুর কালিয়াকৈরে। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছেন হলিক্রস থেকে। অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন ঢাবি চারুকলায়, ড্রয়িং ও পেইন্টিংয়ে। তিনি জাপান ও দিল্লিতে ভিজ্যুয়াল আর্টে ফেলোশিপ করেছেন। বাবা দেওয়ান তৈবুর রহমান ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী ও মা নাজমা চৌধুরী ছিলেন শিক্ষক। ছোটোবেলা থেকেই তিনি শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ছায়ানটে সাত বছর ক্লাসিকা ও রবীন্দ  সংগীত শিখেছেন, বাফাতে নাচ শিখেছেন পাঁচ বছর, তার শিল্পচর্চা দীর্ঘ ২৫ বছরের। আঁকাআঁকিসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম করে থাকেন তিনি।

তিনি ১২ বছর ধরে কাজ করছেন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর। ‘ব্র্যান্ডিং ফর নেশন’ এই চিন্তাকে মাথায় রেখে দেশকে ব্র্যান্ডিং করার জন্য করপোরেট ওয়ার্ল্ডে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য বিভিন্ন শাখার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া তৈরি করে দেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য অভিজ্ঞতা শেয়ারিংসহ থিংক ট্যাংক ধরনের কাজ করে থাকেন তারা।

২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন উইমেন ইন লিডারশিপ প্রতিষ্ঠান। মেয়েদের মধ্যে সঠিই নেতৃত্বের            মাধ্যমে জাগরণ তৈরি করাই সংগঠনের কাজ। তারা বেশির ভাগ নারীদের নিয়ে কাজ করে থাকেন, কর্মক্ষেত্রে নিজেদের উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য         সম্মক ধারণা দিয়ে থাকেন। সংগঠনের রয়েছে পাঁচটি উইং। বাংলাদেশ প্রফেশনাল উইমেন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক তৈরি করার কাজ করেন। উইমেন লিডারশিপ সামিট নামে একটি কাজ রয়েছে যা প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক    নারী দিবসে অনুষ্ঠিত হয়। তারা সম্ভাবনাময় ছাত্রীদের পুরস্কারের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করেন ইনস্পায়ারিং উইমেন অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে। উইমেন ইন লিডারশিপ (উইল) নামে একটি পাবলিকেশন রয়েছে তাদের যা দুই মাস পরপর তাদের সব কর্মকাণ্ডসহ প্রকাশ হয়। উইমেন মেন্টরিং নামে তাদের আরো একটি উইং রয়েছে।

২০১৪ সালেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রিয়েটিভ ফোরামের। তিনি মনে করেন প্রত্যেকটি মানুষ সৃজনশীল আর প্রত্যেকটি কাজও সৃজনশীল। যেকোনো কাজকে সৃজনশীল করাই হচ্ছে কাজের মুনশিয়ানা। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে কীভাবে সৃজনশীল কাজ করা তা নিয়ে করপোরেট জগতে কাজ করেন তিনি। আমাদের দেশে প্রচুর লোকবল রয়েছে, সৃজনশীল কাজেরও সুযোগ রয়েছে, শুধু আমাদের চিন্তাশক্তি আর শ্রমের প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রিমা।

তিনি করপোরেট আইকন নামে এসএ টিভিতে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। গুড সট নামে আরটিভিতে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন।

তিনি ২০০৭ সালে পেয়েছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন অ্যাওয়ার্ড-২০০৭, ২০১৪ সালে দৃশ্যশিল্পে অনন্যা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, পেয়েছেন প্রাইড অফ বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ সহ আরো অনেক পুরস্কার। এই বছর ঢাকা লিট ফেস্টে প্রিমা ডোনা নামে কসমস পাবলিকেশন থেকে একটি বই বের হয়েছে।

২০১৯ সালে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আর্ট প্লাটফর্ম ভেনিস বাইনালে তে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার সঙ্গে আরো তিন জন শিল্পী ছিলেন এই অংশগ্রহণে।

জীবনে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে তাকে। তিনি এই যুদ্ধের সারথি হিসেবে স্মরণ করতে চান তার শিক্ষাগুরু মুর্তজা বশিরকে, আর ধন্যবাদ জানান তার মাকে। তিনি প্রিমার পাশে থেকে লড়ে ইতিহাস তৈরি করে দেখিয়েছেন যে কীভাবে পরিবার একটি মেয়ের পাশে দাঁড়াতে পারে। তার মা প্রিমার প্রত্যেকটি কাজকে গুরুত্ব দেন। প্রিমা নিজেও তার কাজকে ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন জীবনটাই সবার জন্য কাজ করে যাওয়ার। তিনি চান আমাদের দেশের মেয়ে এগিয়ে যাবে সব কাজে। আর মেয়েরা অবশ্যই নিজের পরিচয়ে বড়ো হতে শিখবে।